পুলিশের পোশাকের রং ফের পরিবর্তন, প্রজ্ঞাপন জারি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
ফাইল ছবি
পুলিশের পোশাকের রং পরিবর্তন করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের শার্ট হবে গাঢ় নীল, মহানগর পুলিশের শার্ট হবে হালকা জলপাই এবং প্যান্ট হবে খাকি রঙের।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। বিষয়টি জানাজানি হয় শুক্রবার (১৯ জুন)।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পূর্বে নির্ধারিত আয়রন রঙের শার্টের পরিবর্তে জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল রঙের টিসি (সাধারণ বুননের) কাপড়ের শার্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে শার্ট হবে লাইট অলিভ রঙের টিসি কাপড়ের। এ ছাড়া কফি রঙের ট্রাউজারের পরিবর্তে খাকি রঙের ট্রাউজার নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, পূর্বে নির্ধারিত আয়রন রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভারের পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভার ব্যবহার করা হবে। তবে মহানগর পুলিশের জ্যাকেট হবে লাইট অলিভ রঙের।

নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জেলা পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, বিশেষায়িত পুলিশ ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ি ও গাঢ় নীল ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে লাইট অলিভ রঙের ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। হেড কভার অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধানে গ্রীষ্মকালে অর্ধহাতা এবং শীতকালে পূর্ণহাতা শার্ট পরার বিধান বহাল রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি গর্ভবতী নারী পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন।
এর আগে গত মে মাসের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোশাকের ওপরের অংশ আগে যেটা ছিল মেট্রোর জন্য এবং সারা দেশের জন্য, সেটা বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্যান্ট, পায়জামা সেটা আমরা খাকি ড্রেস দিয়েছি।
পোশাক পরিবর্তনে কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ করেছি সারা দেশে এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিদ্যমান পোশাক আছে এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না এবং এটার যেটা দৃশ্যমান যে এই পোশাকটা আসলে ওয়াইডলি একসেপ্টেডও হয়নি। মানানসই না শুদ্ধ বাংলায়। সেজন্য পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টা বিবেচনা করেছি যে এই ড্রেসটা কিভাবে হয়।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে পুলিশ অবস্থান নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। কেউ কেউ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবিও করেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ।
সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তারাও পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এই রঙের পোশাক দেখতে ভালো লাগছে না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল হওয়ায় তারা অস্বস্তি বোধ করেন।
বিএনপি সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পুলিশের পোশাক আরেক দফা পরিবর্তন আনল। বর্তমানে যে পোশাক পুলিশের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, বিএনপির আগের মেয়াদে (২০০১-২০০৬) একই পোশাক ছিল।
