টিআইবি
দুর্নীতিতে শীর্ষে পাসপোর্ট সেবা, দ্বিতীয় বিআরটিএ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন সেবাখাতে দুর্নীতি ও ঘুষের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির ‘জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’-এর ফলাফলে দেখা গেছে, ঘুষ প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে পাসপোর্ট সেবায়। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। দেশের ১৮টি সেবা খাত নিয়ে পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেবা গ্রহণকারীদের ৮১.৬ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২৩ সালে এ হার ছিল ৭০.৯ শতাংশ। একই সময়ে ৬৩.৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা খাতে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাসপোর্ট সেবায় ঘুষ দেওয়ার হার সবচেয়ে বেশি, যা ৭৬.৬ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় এ হার ৭৯.১ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৭১.৮ শতাংশ।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিআরটিএ, যেখানে এ হার ৬৩.৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও কৃষি খাত (উভয় ক্ষেত্রে ৪৯.৩ শতাংশ) এবং ভূমি সেবা খাত (৪৭.৬ শতাংশ)।
টিআইবির মূল্যায়নে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পাঁচটি খাত হলো- পাসপোর্ট সেবা, বিআরটিএ, বিচার-সংশ্লিষ্ট সেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং ভূমি খাত। অন্যদিকে গড় ঘুষ গ্রহণের পরিমাণের বিচারে শীর্ষে রয়েছে পাসপোর্ট, বিআরটিএ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি ও ভূমি সেবা।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থার অবকাঠামো ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও তার সুফল পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া যায় না- এমন ধারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্থায়ী রূপ পেয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দুর্নীতির বিস্তার ও তীব্রতা উভয়ই বেড়েছে। এর ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষমতাবানরা সুবিধা পেলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ বেশি দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা খাতে নারীদের ভোগান্তিও তুলনামূলক বেশি। আদিবাসী ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ওপর দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব আরও বেশি পড়ছে।
জরিপে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, সেবাখাতে দুর্নীতির কারণে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের প্রায় ১.৫৮ শতাংশের সমপরিমাণ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশ দুদক সম্পর্কে জানেন বা পরিচিত হলেও অভিযোগ করেছেন মাত্র ০.৯ শতাংশ। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনআস্থার ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, গত প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন মাস ধরে কমিশন না থাকায় দুদকের কার্যক্রম কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তাই দ্রুত সার্চ কমিটির কার্যক্রম সম্পন্ন করে যোগ্য, সৎ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে কমিশন পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির গবেষক দলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
