মাহদী আমিন
মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করবে সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকার মূল্যবোধনির্ভর, আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষাখাতের রূপান্তরের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তার অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে চালু হবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপলার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম ধাপে ধাপে চালু করা হবে। পাশাপাশি চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চায় যেখানে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে সহযোগিতামূলক পরিবেশে শেখার সুযোগ থাকবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসেরও কম সময়ে শিক্ষাখাতে ৪৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান অনুমোদনের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই অর্থ দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় শিক্ষা সংস্কারে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন অংশীদারদের সহায়তা সরকারের নীতিমালা ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে অনুদানের সর্বোচ্চ সুফল শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয়।
শহর ও গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ধরনের ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ ও জুতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে কার্যক্রম আরো উন্নত করা হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শিক্ষক। তাই তাঁদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান শিক্ষা সংস্কার কর্মসূচি ও মাল্টিপলার গ্র্যান্টেও শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশীদারিত্বভিত্তিক করা হবে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে সহশিক্ষা কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, দক্ষ শিক্ষক, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা সংস্কারের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলাই সরকারের উদ্দেশ্য। একটি আধুনিক, কার্যকর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
