লাঠিচার্জের পরও সংসদ এলাকা ছাড়েননি শিক্ষার্থীরা, ফের সড়ক অবরোধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হকের পদত্যাগ, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত এবং পরীক্ষার রুটিন পুনর্নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে থেকে পুলিশ লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দিলেও তারা এলাকা ত্যাগ করেননি।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ৮টা ১৫ মিনিটে, সরকারের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের কোনো আলোচনা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা আবারও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। তারা আগামীকালের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, নতুন রুটিন ঘোষণা এবং অন্যান্য দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন।
হামদর্দ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রথমে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে প্রতিনিধি দলকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে আলোচনা করা হবে। কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যারিকেডের পেছনে অপেক্ষা করানোর পর আবারও রাত ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়।
সংসদ ভবনের ভেতরে যাওয়া প্রতিনিধি দলের একজন, আইডিয়া কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, সংসদের কার্যক্রম চলমান থাকার কারণ দেখিয়ে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয়। পরে তারা বাইরে বেরিয়ে আসেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিনিধি দল ভেতরে থাকা অবস্থায় বাইরে শিক্ষার্থীদের ওপর কেন লাঠিচার্জ করা হলো। তিনি আরও জানান, সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, এতক্ষণ পর শুধু দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চেয়ে কোনো লাভ নেই।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আলোচনায় না আসায় তারা পুনরায় সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরীক্ষার্থীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন বটতলা গেট এলাকায় অবস্থান নেন। এতে আসাদগেট থেকে খামারবাড়ি এবং খামারবাড়ি থেকে আসাদগেটমুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে অভিযান শুরু করে এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি ব্যারিকেড অপসারণ করে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাদের জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান ফটক এলাকা থেকে আসাদগেট পর্যন্ত সরিয়ে দেয়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে এক জরুরি বৈঠকে অংশ নেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়া সাংবাদিকদের জানান, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষা, পরীক্ষা পেছানোর দাবি, প্রশ্নে ভুল এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত এবং অন্যান্য দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে সেখানে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এরপর তারা আবার সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ফিরে সড়ক অবরোধ করেন এবং পরে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যান।
