দুই সূত্রে ৪৫ বছরের পলাতক মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করল ডিবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রায় ৪৫ বছর ধরে পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন পরিচয়ে অবস্থান করলেও শেষ পর্যন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে আড়ালে রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছিলেন মোজাফফর হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত ডিবির পরিকল্পিত ও দীর্ঘদিনের নজরদারির মুখে তার আত্মগোপনের অবসান ঘটে।
অভিযানসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গোয়েন্দাদের হাতে শুরুতে ছিল মাত্র দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। প্রথমত, তিনি বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করছেন। দ্বিতীয়ত, তার নাকের নিচে একটি বড় তিল রয়েছে। পাশাপাশি জানা যায়, তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠান এয়ারটেলে কর্মরত। এই তথ্যগুলোকেই ভিত্তি করে কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চালায় ডিবির একটি বিশেষ দল।
আরো পড়ুন: জিয়া হত্যাকাণ্ডের অমীমাংসিত অধ্যায় নতুন করে আলোচনায়
বুধবার গভীর রাতে অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায়ে ওই বাসার দরজায় কড়া নাড়েন গোয়েন্দারা। দরজা খুলে এক বয়স্ক ব্যক্তি সামনে এলে তার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। তিনি নিজের নাম মোজাফফর বলে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে গোয়েন্দারা তার নাকের নিচে থাকা পূর্বপরিচিত তিলটি শনাক্ত করেন। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেনাসদরে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে মোজাফফর নিজের চেহারা, চলাফেরা, পেশা ও বাসস্থানে পরিবর্তন এনে দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে জীবনযাপন করছিলেন। ফলে তার অবস্থান সম্পর্কে দীর্ঘদিন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে পাওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রই তাকে শনাক্ত করতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, অপরাধ যত নিখুঁতভাবে লুকানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, কোনো না কোনো সূত্র থেকে যায়। সেই সূত্র ধরেই বহু বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোয়েন্দারা প্রথমে তার মেয়ের কর্মস্থলকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধান শুরু করেন। কয়েক মাস ধরে তার মেয়ের কর্মস্থল ও চলাফেরা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য বাসার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ওই বাসার ওপর গোপনে নজরদারি চালানো হয় এবং মোজাফফরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ডিবির কাছে আগে থেকেই তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল- নাকের ঠিক নিচে একটি কালো তিল বা আঁচিল। বয়সের কারণে চেহারায় পরিবর্তন এলেও এই জন্মচিহ্ন অপরিবর্তিত ছিল। অভিযানের আগে এটিকেই প্রধান শনাক্তকরণ সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বুধবার গভীর রাতে গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে বাসায় যায়। নিজেদের এয়ারটেলের কর্মী পরিচয় দিয়ে তারা বাসার দরজায় কড়া নাড়ে এবং মেয়ের সঙ্গে দেখা করার কথা জানায়।
এত রাতে অফিসের লোক পরিচয়ে কেউ আসায় বাসার ভেতরে কৌতূহল ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এক বয়স্ক ব্যক্তি দরজা খুলে বাইরে এসে জানতে চান, এত রাতে কী কারণে আসা হয়েছে। তখন গোয়েন্দারা তার মুখাবয়ব পর্যবেক্ষণ করে নাকের নিচের তিলটি দেখতে পান।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কে। জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, “আমি মোজাফফর, মেয়ের বাবা।” নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গেই গোয়েন্দারা তাকে গ্রেপ্তার করেন। এভাবেই দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
