×

জাতীয়

কাজীদের আয় প্রায় পনেরোশত কোটি টাকা, রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

কাজীদের আয় প্রায় পনেরোশত কোটি টাকা, রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার

ছবি: সংগৃহীত

দেশের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা আজ অনিয়ম, ঘুষ, লাইসেন্স ভাড়া ও বিপুল রাজস্ব ফাঁকির জালে বন্দি। সরকারের নামে কোটি কোটি টাকা কমিশন আদায় হলেও তার ১ শতাংশও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স বাণিজ্য, রাজনৈতিক সুপারিশ, ভুয়া প্রতিনিধি নিয়োগ ও আয়কর ফাঁকির মতো নানাবিধ অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো নিকাহ নিবন্ধন খাত।

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। গড়ে একজন কাজির মাসিক আয় আনুমানিক ২ লাখ টাকা হিসেবে এ খাতে বছরে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। বিয়ের সময় সরকারের নামে নির্ধারিত ফি ও কমিশন তোলা হলেও, তার ১ শতাংশও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনিয়মের চিত্র এখানেই শেষ নয়—লাখ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন ও রাজনৈতিক সুপারিশে লাইসেন্স বাগিয়ে নেওয়া এখন একপ্রকার খোলা রহস্য। এভাবে নিয়োগ পাওয়া কাজিরা আবার অবৈধ ভুয়া প্রতিনিধি বসিয়ে নিজের ভাগের কমিশন ঠিকই তুলে নিচ্ছেন, অথচ সরকারের ন্যায্য রাজস্ব পরিশোধে দেখাতেন চরম অনীহা।

আরো পড়ুন: তাপপ্রবাহে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষতি ১.৮ বিলিয়ন ডলার

বিদ্যমান বিধিমালা মতে, দেনমোহরের প্রথম পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রতি হাজার টাকার বিপরীতে চৌদ্দ টাকা হারে নিবন্ধন ফি নির্দিষ্ট রয়েছে। তবে আদায়কৃত অর্থ থেকে সরকারের প্রাপ্তির পরিমাণ সম্পর্কে আইন মন্ত্রণালয়ের নিকট কোনো নির্ভরযোগ্য উপাত্ত নেই। উপরন্তু, কাজিদের বাৎসরিক ফি বা কমিশনের হিসাব সংরক্ষণের দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এড়িয়ে গেছেন।

অনুসন্ধানী সূত্রে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে তিন হতে দশ লক্ষ টাকা এবং রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বিশ হতে চল্লিশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন সংগঠিত হয়। একাধিক নিবন্ধিত কাজির ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যতীত লাইসেন্স লাভ করা সুকঠিন। তদুপরি, মন্ত্রণালয়, জেলা রেজিস্ট্রি কার্যালয়সহ বিবিধ পর্যায়ে নিয়মিত মাসোহারা ও সংগঠনের নামে চাঁদা প্রদানের অভিযোগ সুনির্দিষ্ট।

এদিকে, অনেক নিবন্ধিত কাজি নিজে দায়িত্ব পালন না করে লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে প্রতিনিধি দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কোথাও কোথাও একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করছেন, যদিও আইনে এমন কোনো সুযোগ নেই। এতে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি ও তদারকি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সরকারের করনীতি অনুযায়ী, বছরে ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হলে আয়কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ঢাকার অভিজাত এলাকা ছাড়াও অধিকাংশ এলাকার ওয়ার্ডে একজন কাজি মাসে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করেন। এসব কাজি লাইসেন্সের বিপরীতে বছরে নামমাত্র টাকা পরিশোধ করে বাকি সব টাকাই হাতিয়ে নেন। কিন্তু সরকারকে আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের তীব্র অনীহা লক্ষণীয়। কোনো কোনো কাজি আবার নিজের স্থাবর সম্পত্তির ওপর আয়কর দিয়ে কাজি পেশার আয় গোপন করেন। রাজধানীর একজন কাজি কম করে হলেও বছরে অর্ধকোটি টাকা আয় করেন।

আরো পড়ুন: আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে লতিফ সিদ্দিকীকে

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি কাজি হিসেবে কাজ করছেন, যার ফলে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি ও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে পুরো বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ৩০০ কাজির নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। বর্তমানে এসব বিষয়ে একাধিক মামলা ও রিট বিচারাধীন রয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭-এর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবদুল ওয়াহাব কালবেলাকে বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার রেজিস্ট্রারভুক্ত কাজি আছেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৫ শতাধিক কাজির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।’ তবে কাজিদের বার্ষিক ফি বা সরকারের রাজস্ব আয়ের তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই তথ্য রাখার দায়িত্ব আমাদের না।’

এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব বলেন, ‘কাজিদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম কমাতে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ডিজিটালাইজেশন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।’

অন্যদিকে, বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম কিবরিয়া দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারের নামে আদায়কৃত কমিশন বছরে দুবার কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং কাজিরা আয়করও পরিশোধ করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ভুয়া কাজি বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শতভাগ ডিজিটাল পেমেন্ট, কেন্দ্রীয় হিসাব নম্বর, অনলাইন মনিটরিং, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা গেলে রাজস্ব ফাঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে সরকারের আয় বাড়বে এবং মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ঢাকায় মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর

ঢাকায় মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর

যে কারণে বিয়ে ভেঙে যায় অভিষেক-কারিশমার

যে কারণে বিয়ে ভেঙে যায় অভিষেক-কারিশমার

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক মন্তব্য লতিফ সিদ্দিকীর

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক মন্তব্য লতিফ সিদ্দিকীর

তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চান?

সারজিসের প্রশ্ন তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চান?

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App