×

জাতীয়

ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতার সাক্ষী ‘আয়নাঘরের’ দেয়াল : চিফ প্রসিকিউটর

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতার সাক্ষী ‘আয়নাঘরের’ দেয়াল : চিফ প্রসিকিউটর

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বহুল আলোচিত ‘আয়নাঘরের’ দেয়াল আজও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার ভয়াবহতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার ভাষ্য, এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়; বরং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এই গোপন নির্যাতনকেন্দ্রই প্রমাণ করে, সে সময় রাষ্ট্র পরিচালনায় ফ্যাসিবাদী চরিত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আয়নাঘরের অস্তিত্বের মধ্য দিয়েই সেই চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আয়নাঘরের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সেখানে প্রবেশ করে অত্যন্ত ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৯টি কামরা বা সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ভিন্নমতের ব্যক্তিদের তুলে এনে এসব কক্ষে বছরের পর বছর আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো। পরে কাউকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় হস্তান্তর করা হতো। আবার অনেককে হত্যার পর মরদেহ গুম করে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উদ্ধার হওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান অন্যতম। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার বিচার চলছে। তবে এখনো গুম ও হত্যার শিকার প্রায় ২৫০ জনের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের তালিকায় ইলিয়াস আলী ও সুমনের নামও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকেও একসময় এই আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টিএফআই সেলের একটি কক্ষে তাকে বন্দি রাখা হয় এবং পরে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাক্ষীদের বর্ণনা ও তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলেও তিনি জানান।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব নির্যাতনের ঘটনায় সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির আওতায় যারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে ছিলেন, যারা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছিলেন, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে।

ন্যায়বিচারের স্বার্থে শনিবার বেলা ১১টার দিকে গোপন এই বন্দিশালা পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলাম, মঈনুল করিমসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্য এবং আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

৩৬ কোটি চোখ এখন জাতীয় সংসদের দিকে: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

৩৬ কোটি চোখ এখন জাতীয় সংসদের দিকে: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

‘নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার’

জলবায়ু পরিবর্তন ‘নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

দৌলতপুরে নদীভাঙন তীব্র, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

দৌলতপুরে নদীভাঙন তীব্র, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App