পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
বেনজীরকে দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও তিনি জানান।
রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।
দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে সর্বশেষ কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই। বিভিন্ন বৈঠকে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে আপডেট পাননি বলেও উল্লেখ করেন। এ সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, হুতি গোষ্ঠীর হুমকি মোকাবিলায় গঠিত সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বাংলাদেশ ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফর দেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন।
এর আগে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীর আহমেদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই ইউএইর একটি আদালত শর্তসাপেক্ষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। দুবাই পুলিশের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সমন্বয়ে তাকে আটক করা হয়েছিল।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দুদক তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে আদালতের নির্দেশে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
