হাইকোর্টের রুল
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি কেন অবৈধ নয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে শারীরিক সম্পর্কের ঘটনায় কেবল পুরুষকে শাস্তির আওতায় আনার বিধানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রুল জারি করে আদালত জানতে চেয়েছেন, এ ধরনের বিধান কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র অভিযোগে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ সংযোজিত সংশ্লিষ্ট ধারাটি কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়েও রুলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সি কোনো নারীর সঙ্গে যৌনকর্ম করা এবং ওই সময় তার সঙ্গে আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
আরো পড়ুন: ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
এর আগে, একই বিষয়ে দায়ের করা একটি রিটের পর হাইকোর্ট প্রাথমিকভাবে রুল জারি করেছিলেন। সর্বশেষ সম্পূরক রুলের মাধ্যমে আদালত ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের সাংবিধানিক বৈধতা আরও সুস্পষ্টভাবে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র ভিত্তিতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি অস্পষ্ট, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই বিধানটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রথমে আমাদের দেশে ধর্ষণজনিত অপরাধগুলোর বিচার ও শাস্তি হত দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী। কিন্তু গত ৮-১০ বছর ধরে একটা ট্রেন্ড বা প্রচলন শুরু হয় যে, ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ বলে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। অর্থাৎ বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক করেছে এবং পরে বিয়ে করেনি; এটিকে ধর্ষণ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।’
তার ভাষ্য মতে, ‘যেহেতু আগের আইনটি আর নেই, তাই আমরা ২০২৬ সালের নতুন সংশোধনী আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে সম্পূরক হলফনামা দাখিল করি। আদালত মঙ্গলবার শুনানি শেষে আইনটি কেন অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।’
