ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বর্জন করলেন আখতার হোসেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিকৃতি ও আন্দোলনের কৃতিত্ব দলীয়করণের অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আখতার হোসেন। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতেই দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের মূল অংশীজন এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো উপেক্ষা করে ইতিহাসকে একপেশেভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আখতার হোসেনসহ এনসিপির নেতারা অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন। তাদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে গণঅভ্যুত্থানের মূল ব্যানার ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’, আন্দোলনের ৯ দফা এবং ৩ আগস্ট ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘এক দফা’র বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে আখতার হোসেন রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সবার অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের অংশীদার আমরা সবাই। এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আয়োজন, যেখানে সবার অবদান তুলে ধরা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজও আমরা ইতিহাসকে সামগ্রিকভাবে ধারণ করতে পারছি না। অতীতে যেমন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে একপেশেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, এখনো তেমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি, জামায়াত, বামপন্থি দল, সাধারণ শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, প্রবাসীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান রয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সবার ভূমিকাই যথাযথ স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।’
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রের সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, ‘যে “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন”-এর ব্যানারে এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল, সেই নামটিই তথ্যচিত্রে অনুপস্থিত। একইভাবে আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেওয়া ঐতিহাসিক ৯ দফা এবং ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ঘোষিত “এক দফা”র বিষয়টিও বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়, বরং সচেতনভাবে ইতিহাস বিকৃতি ও দলীয়করণের প্রচেষ্টা।’
যদিও অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংশোধনের আশ্বাস দেন, তবে আখতার হোসেন বলেন, এমন ভুলকে সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সবসময় সবার অবদানের কথা বলেছি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যে-ই অংশগ্রহণ করে থাকুন-তিনি বিএনপি, জামায়াত, বামপন্থি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রিকশাচালক কিংবা প্রবাসী- সবাই এই ইতিহাসের অংশ। তাই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তাদের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা উচিত।’
আখতার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকারের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, আন্দোলনের কঠিন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মাহিন সরকার আমন্ত্রিত অতিথি হওয়া সত্ত্বেও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হলরুম ত্যাগ করতে বাধ্য হন। একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ দেশের বিভিন্ন জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়েও করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধা হিসেবে মাননীয় রাষ্ট্রপতির প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে অবস্থান করা আমার এবং আমার সহযোদ্ধাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়।’
