চাকরি পেলেন জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের ১০ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন সরকারপ্রধান।
নিয়োগপত্র পাওয়া ১০ জন হলেন— শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি, শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী, গুরুতর আহত আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং আহত জুলফিকার আলমের স্ত্রী আরজু আক্তার।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল— বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট কাটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটি বড় কথা নয়; বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানান হাসান শিপলু।
অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত ছিলেন।
চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জীবিকা নির্বাহের জন্য তিন জুলাই যোদ্ধাকে সিএনজি অটোরিকশা, প্যাডেলচালিত ও ব্যাটারিচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে এসব যানবাহন তুলে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তিন যোদ্ধার কর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি সিএনজি অটোরিকশা, দুটি প্যাডেলচালিত এবং দুটি ব্যাটারিচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা, পরিবার ও জীবিকা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সিএনজি অটোরিকশা পেয়েছেন মিরপুর বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজ শেখ। তাঁর বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
আজিজ শেখ বলেন, ‘সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে আমি নিজের লেখাপড়া ও পরিবার চালাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মিরপুর-১০ এলাকায় অংশ নিয়ে আমি গুলিবিদ্ধ হয়েছি। আমার শরীরে ৩৬টি গুলির স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। প্রধানমন্ত্রী আমাকে পড়াশোনা অবশ্যই চালিয়ে যেতে বলেছেন।’
কুষ্টিয়ার মো. গফফার পেয়েছেন দুটি প্যাডেলচালিত অটোরিকশা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের নিয়মিত পানি সরবরাহ করতেন এবং নিজের রিকশায় আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতেন।
গফফার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া একটি রিকশা ঢাকায় চালিয়ে আমি জীবিকা নির্বাহ করব এবং আরেকটি রিকশা ভাড়া দেব।’
অন্যদিকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ৬৫ বছর বয়সী আসাদুল হক বিশু পেয়েছেন দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছিলাম। এই উপহারের ফলে আমার বিরাট উপকার হবে।’
