×

জাতীয়

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যে চার নেতা: রাজনীতিতে কার কী অবদান

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যে চার নেতা: রাজনীতিতে কার কী অবদান

ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সময় ঘনিয়ে আসায় সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন চার নেতা।

আলোচনায় থাকা নেতারা হলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

তবে আলোচনায় থাকা অন্যদের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি হতে আগ্রহী নন বলে জানা গেছে। একইভাবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খানের নামও এখন আর তেমনভাবে আলোচনায় নেই বলে সরকারের একটি সূত্রের দাবি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, আলোচনায় থাকা প্রত্যেক নেতারই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে। তাদের চিন্তা, মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি তুলনা করাও কঠিন। তার মতে, আলোচনায় থাকা চার নেতাই অভিজ্ঞ, যোগ্য এবং রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে দলের নেতাকর্মীসহ রাজনৈতিক মহল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নাম হিসেবে উঠে আসছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষ করে গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকটের সময়ে মির্জা ফখরুল দলের দৃশ্যমান নেতৃত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন। তারেক রহমান দেশের বাইরে এবং খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে কারাবন্দি থাকাকালে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

আরও পড়ুন : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত

পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবেও মির্জা ফখরুলের পরিচিতি রয়েছে। দীর্ঘদিন বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকার কারণে দলের বাইরেও তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন অনেক নেতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে ২০০৯ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন।

২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও কারাবরণের ঘটনাও রয়েছে। দলের সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব ধরে রাখা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তার আনুগত্যকে রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় তার এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিএনপির অনেক নেতা।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা আরেক প্রবীণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি একজন ভূতত্ত্ববিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক হিসেবেও পরিচিত।

১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। দলের প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪ সাল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

দলের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিএনপির সঙ্গে ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনসহ বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

আরও পড়ুন : মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করতে জুলাইকে ব্যবহারকারীরা ‘ধান্ধাবাজ’: আসিফ নজরুল

রাজনীতির পাশাপাশি তার রয়েছে সমৃদ্ধ একাডেমিক জীবন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পর লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বিভাগটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন খন্দকার মোশাররফ। দলের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে বিএনপির ভেতরে তার অবস্থান শক্তিশালী। তবে শারীরিক পরিস্থিতিও রাষ্ট্রপতি পদে তাকে বিবেচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ড. আবদুল মঈন খান

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির অন্যতম পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে পরিচিত। দেশ-বিদেশে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিচিতি রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ড. মঈন খান। বিভিন্ন সময়ে তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন তিনি।

আরও পড়ুন : শেখ হাসিনার সঙ্গেই দেশে ফিরবেন সাকিব

বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সময় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল বলে দলীয় নেতারা মনে করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি এবং রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তির কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তার নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠকের ক্ষেত্রেও মঈন খানের সক্রিয়তা ছিল। দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন অনেকে।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা চার নেতার মধ্যে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক ও কর্মজীবনও বেশ বর্ণাঢ্য। তিনি একজন বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা, সাবেক ফুটবলার এবং একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর দলটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একসময় তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যও ছিলেন।

আরও পড়ুন : ১/১১ তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখা হয়েছিল

রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় নানা চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের সঙ্গে থাকার কারণে বিএনপির ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি প্রথমে সংসদ সদস্য, পরে মন্ত্রী এবং এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন।

বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংসদীয় রাজনীতি, প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে নিয়েও দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা রয়েছে।

সিদ্ধান্ত এখন তারেক রহমানের হাতে

রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে চার নেতার নাম সামনে এলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যিনি রাষ্ট্রের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি সরকার, সংসদ, রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন।

ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য, জনগ্রহণযোগ্যতা, আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার নজর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের দিকে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত মানলেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত মানলেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে: ইরান

বাবার জানাজায় ডান্ডাবেড়ি পরা কোটালীপাড়ার সাবেক মেয়র

বাবার জানাজায় ডান্ডাবেড়ি পরা কোটালীপাড়ার সাবেক মেয়র

মেসিকে গড়ে তোলার পেছনে বাবার যে অবদান

মেসিকে গড়ে তোলার পেছনে বাবার যে অবদান

পাটওয়ারীর ওপর মার শুরু হয়েছে কেবল

এমপি মনজুরুল পাটওয়ারীর ওপর মার শুরু হয়েছে কেবল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App