×

জাতীয়

কাল পদত্যাগ করতে পারেন মির্জা ফখরুল

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

কাল পদত্যাগ করতে পারেন মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দলটির পক্ষ থেকে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ থেকে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। গত কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক আলোচনা, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক এবং সাম্প্রতিক তৎপরতায় মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে।

তবে এখনো রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় আসার মধ্যেই মঙ্গলবার সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় দেখা যায়। অনেকে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে আসেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুলকে খুব বেশি উৎসাহী দেখা যায়নি। শুভেচ্ছা জানাতে আসা ব্যক্তিদের উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আগে হোক, তারপর।’

এরপরও তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সচিবালয়ে দাপ্তরিক কাজ করেন। পরে বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে যান। সেখানেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি ছিল।

নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

দলীয় সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে আজ অথবা বৃহস্পতিবার তার শেষ কর্মদিবস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকতে পারে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েক দিন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় ছিল। এ ছাড়া ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নামও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে মির্জা ফখরুলের নামই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

দলের নেতাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনার অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।

নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে মির্জা ফখরুল এখনো সরাসরি কোনো ঘোষণা দেননি। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে তাঁর কিছু বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

তিনি বলেন, বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মনোনয়ন ফরমে স্বাক্ষর বা সম্মতি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, মনোনয়ন ফরম তোলার ক্ষেত্রে স্বাক্ষর বা সম্মতির প্রয়োজন নেই। ফরম জমা দেওয়ার সময় স্বাক্ষরের বিষয়টি আসে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে অতিরিক্ত আগ্রহ দেখিয়ে নানা ধরনের খবর প্রকাশ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানের ওপর দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও মির্জা ফখরুলের নামই বেশি আলোচিত হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি অবশ্য জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এই পদ্ধতি চালু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের বিধান থাকায় কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকে না।

এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ কার্যত সীমিত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাভারে আবারও প্রেশার কুকার বোমা

সাভারে আবারও প্রেশার কুকার বোমা

স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছুঁইছুঁই

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছুঁইছুঁই

বরিশালে আদালতের সামনে বোমা বিস্ফোরণ

বরিশালে আদালতের সামনে বোমা বিস্ফোরণ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App