নবম পে স্কেল নিয়ে বড় সুখবর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও সরকারি পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব বর্তমানে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী সপ্তাহে অথবা আগস্টের শেষ দিকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আর্থিক প্রভাব। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লে রাষ্ট্রীয় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে স্কেল বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্বের পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত না করে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে। একবারে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল চালুর পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন শতভাগ বাড়ানোর সুপারিশ
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল নবম পে স্কেলের সুপারিশ পুনর্মূল্যায়নে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এ ব্যয়ের চাপ সামলাতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন হবে।
এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা বাড়ছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় কবে উঠবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কী ধরনের বেতন কাঠামো কার্যকর হবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
