পে-স্কেল নিয়ে চমক দিল সচিব কমিটি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না। গ্রেডভেদে বেতন বৃদ্ধির হার কমবেশি হতে পারে। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছরে শুধু মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরের বছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য ভাতাসহ সংশ্লিষ্ট সুবিধা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গতকালের শেষ বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সব সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। এতে ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে সদস্যরা একমত হয়েছেন।
ওই সদস্য বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে প্রস্তাবে পরিবর্তন আনতে পারবে। অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করবে।
সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম বছরে মূল বেতন বাড়ানো হবে। দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে।
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে-স্কেলও দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। প্রথম বছরে বেতন এবং পরের বছর ভাতা কার্যকর হয়েছিল। সামগ্রিক বিবেচনায় নতুন পে-স্কেলও দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: টানা ৪ দিনের ছুটি যেভাবে মিলবে
তিনি আরও বলেন, সচিব কমিটি একাধিক প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এরপর মন্ত্রিসভা যেটিকে উপযুক্ত মনে করবে, সে অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয় ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতনের ওপর নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করাই ছিল এই কমিটির দায়িত্ব।
প্রায় চার মাস পর্যালোচনার পর কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
সচিব কমিটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পর নতুন করে মন্ত্রী পর্যায়ের আরেকটি কমিটি গঠন করায় নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
আরও পড়ুন: ‘মন্ত্রীর জুতা টানা’ প্রসঙ্গে যা বললো পুলিশ
গত বৃহস্পতিবার জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ তৈরির জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়াই ছিল তাদের দায়িত্ব। জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বিষয়ে তারা সুপারিশ করেছেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।
এ ছাড়া ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন মন্ত্রিসভার হাতে। অর্থ বিভাগের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর বেতন বৃদ্ধির হার, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং ভাতা কার্যকরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
