রামিসা হত্যা মামলা
আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের কার্যতালিকায়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) এসেছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি আগামী রোববারের (১৬ আগস্ট) কার্যতালিকায় ২২ নম্বরে রাখা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৯ মে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। একই ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলার পর ২১ মে সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
আরো পড়ুন: শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ জাতির দীনতার প্রকাশ: প্রধানমন্ত্রী
মামলার তদন্ত শেষে ২৫ মে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। পরে একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
এরপর ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ একই দিনে শেষ করা হয়। পরে ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য নেওয়া হয়।
সবশেষে ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ রয়েছে। তবে ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদনের পরই দণ্ড কার্যকর করা যাবে।
এ ছাড়া সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীর কাছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
