মিয়ানমারকে ঢাকা
‘রোহিঙ্গারা রোহিঙ্গাই, বাঙালি নয়’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
ফাইল ছবি
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে উদ্বেগ জানিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াউ সোয়ে মোয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান।
পরে এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে দেওয়া তথ্যসহ বেশ কিছু বিষয় ‘ভুল পরিসংখ্যাননির্ভর’ বলে রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন মহাপরিচালক।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যার প্রতিফলন জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গারা বাঙালি নয় এবং সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারই তাদের নিজস্ব নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের স্বীকৃতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় বাংলাদেশে থাকা ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর বিভিন্ন সময়ে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের তথ্যও যাচাইয়ের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমার সরকারের কাছে দেওয়া হবে। যাচাই-বাছাইয়ের সময় নতুন যুক্ত হওয়া তথ্যও বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে সরকারের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত সোয়ে মোয়ে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তিনি জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান—বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একমত নয়। এ বিষয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি নিজ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বৃহস্পতিবার ফখরুল-অলির ভোট
মিয়ানমারের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে যাওয়াই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। নিজেদের পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
