টাকার বিনিময়ে মানুষ ধরে আনে ‘ক্যাচিং পার্টি’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অবৈধ ও অসাধু কিছু নিরাময়কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কেন্দ্রগুলোতে রোগীদের ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি ভয়ংকর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা।
কিছু প্রতিষ্ঠানে নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে মাদক ব্যবসা ও নির্যাতনের জন্য বিশেষ কক্ষ ব্যবহারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি রোগীকে সুস্থ করার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে মাদক কেনার অর্থ দেওয়ার চাপও দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশের মূল লক্ষ্য রোগীর চিকিৎসার চেয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।
অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মতো বিষয়েও নিরাময়কেন্দ্রের বিশেষ দলকে ব্যবহার করা হয়। এসব দলের সদস্যদের অনেকেই ‘ক্যাচিং পার্টি’ নামে পরিচিত। টাকার বিনিময়ে তারা কাউকে মাদকাসক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে জোর করে ধরে এনে নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬.৩ শতাংশ মানুষ
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাচিং পার্টির মাধ্যমে কাউকে ধরে আনার জন্য নিরাময়কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ রয়েছে। ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে কাউকে ধরে আনার জন্য নেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা।
ঢাকার বাইরে হলে খরচ আরও বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার হিসেবে অর্থ নেওয়া হয়। আর চট্টগ্রাম বা সিলেট থেকে কাউকে ধরে আনতে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা খরচ হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এমনই এক নিরাময়কেন্দ্রে মাদকাসক্ত অবস্থায় বন্দি রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের এক শিক্ষার্থী। তাকেও ক্যাচিং পার্টির মাধ্যমে ধরে আনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। নিরাময়কেন্দ্রে আসার আগে মাদকের জন্য তাকে প্রতিদিন অন্তত ১৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করতে হতো।
তবে নিরাময়কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠার পরিবর্তে তিনি সেখানে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তার বাবা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) সাবেক পরিচালক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ সেই তুলনায় অপ্রতুল। বর্তমানে দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। অথচ ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণসহ নানা কারণে দেশে মাদকের বিস্তার বাড়ছে। শিক্ষার অভাব, অতিরিক্ত স্বাধীনতা, একাকিত্ব ও অঢেল অর্থসম্পদের প্রভাবেও অনেকে মাদকের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব এবং পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়াও মাদকাসক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা।
