পে-স্কেলের গেজেটেও নতুন ভাবনা, আলোচনায় ২০ গ্রেড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নবম জাতীয় পে-স্কেলে ২০টি গ্রেড রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো নির্ধারিত হয়নি। মূল বেতন, ভাতা, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে নানা বিষয় বিবেচনায় থাকায় জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে চলতি আগস্টে গেজেট প্রকাশ হবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটি আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে পারে। এসব বৈঠকে সুপারিশ চূড়ান্ত করার পর তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
গত ১৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সচিবালয়ে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, অষ্টম পে-স্কেলের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটি সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন বৈষম্যের শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল চালুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, এবার সেই অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিন ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনা
প্রাথমিকভাবে নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনা থাকলেও এখন তিন ধাপে কার্যকরের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন চালু করা হতে পারে। পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আলোচনায় ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের একটি নীতিগত প্রস্তাব এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রযুক্তিগত জটিলতাও বড় চ্যালেঞ্জ
ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইএফটি (EFT) ও আইবাস++ (iBAS++) ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
নতুন মূল বেতন পর্যায়ক্রমে কার্যকর করতে হলে বিদ্যমান সফটওয়্যার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে সময় লাগার পাশাপাশি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে একাধিক বৈঠক হলেও কমিটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
আলোচনায় ২০ গ্রেড
সচিব কমিটির বৈঠকে নবম পে-স্কেলে বেতন কমিশনের প্রস্তাব করা ২০টি গ্রেড রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা রয়েছে।
তবে সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর অঙ্কে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে চলতি বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
একটি সূত্রের দাবি, চলতি আগস্টেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে, সব প্রক্রিয়া শেষ করে অক্টোবরের আগে গেজেট জারি করা কঠিন হতে পারে।
এখন সচিব কমিটির পরবর্তী বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত পর্যালোচনা শেষ করে নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশ করবে সরকার।
