×

জাতীয়

শিক্ষক থেকে এবার জাতির অভিভাবক

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫০ পিএম

শিক্ষক থেকে এবার জাতির অভিভাবক

ছবি : সংগৃহীত

ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক, এরপর তৃণমূলের রাজনীতি পেরিয়ে পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর এবার দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন এবং ছয়জন ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে শপথ পড়ান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেন তিনি।

ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় জন্ম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী এবং পাকিস্তান প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য। পরে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য ও এরশাদ সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মা মির্জা ফাতেমা আমিন।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সক্রিয়ভাবে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং এসএম হলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্রনেতা হিসেবে ভূমিকা রাখেন।

শিক্ষাজীবন শেষে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তবে রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তাকে শিক্ষকতার পেশা থেকে রাজনীতির মাঠে নিয়ে আসে। ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।

তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতিতে

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পথচলার শুরু আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাপে। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর জেলা ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। পরে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৬ সালে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

আন্দোলনের মাঠে নেতৃত্ব

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন মির্জা ফখরুল। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও দলীয় কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।

খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলে দলীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল। একই সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকায় দলীয় আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান নেতৃত্ব দেন তিনি।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে।

সংসদ ও মন্ত্রিসভায়

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরে খালেদা জিয়ার সরকারে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হন তিনি। বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও বিএনপি সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি শপথ নেননি।

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন মির্জা ফখরুল।

এবার রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিভাবক

দীর্ঘ শিক্ষকতা, তৃণমূলের রাজনীতি, দলীয় নেতৃত্ব, সংসদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্ব—সব মিলিয়ে কয়েক দশকের রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোটের জয় তাকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির মর্যাদায় নিয়ে এসেছে। একসময় শ্রেণিকক্ষে অর্থনীতি পড়ানো শিক্ষক থেকে এখন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিভাবকের দায়িত্বে তিনি।

ব্যক্তিজীবন

ব্যক্তিজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

রাহাত আরা বেগম একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন এবং সিডনিতে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শামীম কায়সারকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, বাতিল চায় হেফাজতে ইসলাম

শামীম কায়সারকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, বাতিল চায় হেফাজতে ইসলাম

শিক্ষক থেকে এবার জাতির অভিভাবক

শিক্ষক থেকে এবার জাতির অভিভাবক

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা শামীম কায়সার হলেন প্রতিমন্ত্রী

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা শামীম কায়সার হলেন প্রতিমন্ত্রী

লন্ডন প্রবাসী থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন হুমায়ুন কবির

লন্ডন প্রবাসী থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন হুমায়ুন কবির

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App