রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ‘দুঃখ পেলেন’ চুপ্পু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় দুঃখ ও বিব্রতবোধ করেছেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনীতিক, প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে।
শপথ অনুষ্ঠানে সাহাবুদ্দিনের অনুপস্থিতির কারণ জানতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না।
বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাও জানান, শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের মূল দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য আসন রাখার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় সে অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি। বিষয়টি নিয়ে তিনি ‘দুঃখিত ও বিব্রত’। তবে এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
আরও পড়ুন: ভারতের উপকূলে বাংলাদেশীসহ ২৪ নাবিক নিয়ে জাহাজডুবি
নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সাহাবুদ্দিন বলেন, আগের তুলনায় তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। পা ফুলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাতেও সমস্যা হচ্ছে। এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি গুরুতর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতার পাশাপাশি হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি এবং অটোনমিক নিউরোপ্যাথি শনাক্ত হওয়ার কথাও জানান তিনি।
দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সাংবিধানিক এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়—এমন কারণ দেখিয়ে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করেন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তী বিএনপি সরকারের আমলেও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
