×

জাতীয়

আসাদুজ্জামান কমিশনের প্রথম মামলা

আসামি পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জন

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম

আসামি পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জন

ফাইল ছবি

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মামলার অনুমোদন দিয়েছে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের নতুন কমিশনের প্রথম মামলা অনুমোদনের তথ্য জানান।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মমিনুর রহমানের নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুদক। মমিনুর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২৪ সালে অনুসন্ধান শুরু হয়। তবে অনুসন্ধানে ঋণ অনিয়মের সঙ্গে অভিযোগকারীর নিজের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

আকতারুল ইসলাম বলেন, মমিনুর রহমান ঋণ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তাঁর নামে ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে অভিযোগকারী মমিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ও অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

আরও পড়ুন: অক্টোবরেই চালু কক্সবাজার বিমানবন্দর

আসামি যারা

দুদকের অনুমোদনপত্র অনুযায়ী, অনুসন্ধান দলের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে ১০ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন

এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মমিনুর রহমান; মো. অজিত উল্লাহ; পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারী; ব্যাংকটির গুলশান সাউথ এভিনিউ শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ কর্নেলিয়াস গমেজ; সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ রাসেল মিয়া; সাবেক ম্যানেজার অপারেশন এম আতিফ খালেদ; প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আমেনা বেগম;

বসুন্ধরা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামছুল হাসান ভূঞা; সাবেক ম্যানেজার অপারেশন মাহবুব আহমদ; সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মো. কাওসার হোসেন।

দুদকের অনুসন্ধান নথিতে অভিযোগের বিষয় হিসেবে বলা হয়েছে, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মমিনুর রহমানের নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

যে ধারায় মামলা

২০২৪ সালে অভিযোগটির অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দুদকের মানিলন্ডারিং বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। অনুসন্ধান শেষে তাঁর প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

১০ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ, অপরাধে সহায়তা, প্রতারণা, জাল দলিল তৈরি ও জাল দলিল ব্যবহারের মতো অভিযোগের বিষয় রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশেষ অতিথি না করায় ‘১৪৪ ধারা’ ঘোষণা, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

এর সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে গত ১৭ আগস্ট দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় সরকার। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়াকে কমিশনার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ১৬৬ দিন পর দুদকের শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ হয়।

নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার ১৮ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। পরদিন তাঁরা দুদক কার্যালয়ে গিয়ে দায়িত্ব শুরু করেন।

এর আগে সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করার পর থেকে কমিশনের শীর্ষ তিন পদ খালি ছিল।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেছিলেন, নতুন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায় এবং কোনো ধরনের চাপের মধ্যে নেই। এর চার দিনের মাথায় রোববার ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে প্রথম মামলার অনুমোদন দিল নতুন কমিশন।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে পদ্মা ব্যাংক

পদ্মা ব্যাংকের আগের নাম ছিল ফারমার্স ব্যাংক। ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করা ব্যাংকটি কয়েক বছরের মধ্যেই ঋণ অনিয়ম ও আর্থিক সংকটে পড়ে। পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করে পদ্মা ব্যাংক করা হয়।

আর্থিক সংকট থেকে ব্যাংকটিকে বের করে আনতে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মাধ্যমে ৭১৫ কোটি টাকা মূলধন দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ওই অর্থ ব্যাংকটির মোট মূলধনের প্রায় ৬৬ শতাংশ ছিল।

ফারমার্স ব্যাংকের সময় থেকেই প্রতিষ্ঠানটির ঋণ বিতরণে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। নাম পরিবর্তনের পরও পদ্মা ব্যাংকের ঋণ ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘ভোটারবিহীন দুর্গম চরে ভোটকেন্দ্র’, প্রতিবাদে রাজপথে মানুষ

‘ভোটারবিহীন দুর্গম চরে ভোটকেন্দ্র’, প্রতিবাদে রাজপথে মানুষ

১৬ বস্তায় ৯০০ কেজি ঘোড়ার মাংস, তারপর যা হলো

১৬ বস্তায় ৯০০ কেজি ঘোড়ার মাংস, তারপর যা হলো

আসামি পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জন

আসাদুজ্জামান কমিশনের প্রথম মামলা আসামি পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জন

লালমনিরহাটের শিশু নন্দিনী হত্যায় প্রধান আসামির ফাঁসি

লালমনিরহাটের শিশু নন্দিনী হত্যায় প্রধান আসামির ফাঁসি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App