বিশেষ অতিথি না করায় ‘১৪৪ ধারা’ ঘোষণা, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গ্রামের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় বিশেষ অতিথি না করায় ‘১৪৪ ধারা জারি হয়েছে’— এমন ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। তার ওই মাইকিংয়ের পর আয়োজকেরা ফাইনাল ম্যাচটি স্থগিত করে দেন।
ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের লালপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) অভিযুক্ত মোহাম্মদ মারুফ আলী গ্রামজুড়ে মাইকিং করেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। তিনি কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেশবপুর গ্রামে প্রায় ৬০ বছর ধরে প্রতিবছর ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে আসছে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে গ্রামের কলেজ, উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবীদের দল অংশ নেয়।
এবারও প্রায় ১৫ দিন আগে টুর্নামেন্ট শুরু হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগেই বিশেষ অতিথি করা নিয়ে বিরোধের জেরে ম্যাচটি স্থগিত হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপতি, মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পথচলা
আয়োজকেরা জানান, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মারুফ আলী ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি এবং তাঁকে বিশেষ অতিথি করার কথা বলে আসছিলেন। তবে আয়োজক কমিটি তার প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।
কেশবপুর ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সদস্য মাহবুব বলেন, গ্রামের প্রবীণদেরই সাধারণত এই আয়োজনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথি করা হয়। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ কারণে মারুফ আলীকে বিশেষ অতিথি করা হয়নি।
তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে মাইকিং করে মারুফ আলী ঘোষণা দেন, খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং সেখানে কেউ খেলতে পারবেন না। এর আগে বৃহস্পতিবারও একই ধরনের মাইকিং করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
মাইকিংয়ের পর ফাইনাল ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কেশবপুর গ্রামের গ্রামপ্রধান আজিজুর রহমান বলেন, ওই ঘোষণার পর খেলা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তার ভাষ্য, আইন অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছাড়া কেউ ১৪৪ ধারা জারি করতে পারেন না। তাই ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ‘আমি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম মুখ খারাপ প্রধানমন্ত্রী হবো’
মারুফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি ফাইনাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয়ে মারুফ আলীকে কোনো কথা বলেননি।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদল নেতা ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে— এমন মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করেছেন বলে তারা শুনেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মারুফ আলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে নাটোর জেলা ছাত্রদল।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ ইসলাম সৃজনের যৌথ নির্দেশে তাকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
