×

জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা

১০ বছরকে ২০ বছর হতে দেওয়া যাবে না: শামা ওবায়েদ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

১০ বছরকে ২০ বছর হতে দেওয়া যাবে না: শামা ওবায়েদ

ছবি : সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের মিয়ানমারের নিজভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে এই সংকট যেন আরও এক দশক ধরে দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশে বড় আকারে রোহিঙ্গা আগমনের নয় বছর পূর্তির দুই দিন আগে রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশ একটি মানবিক জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে সেই পরিস্থিতি এখন রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। কোনোভাবেই এই দশকব্যাপী সংকটকে আরও ১০ বছর বাড়তে দেওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা জানা গেল

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) ও অক্সফামের যৌথ আয়োজনে ‘১০ বছরে যাচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট: মানবিক সাড়াদান থেকে টেকসই সমাধান’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযান, হত্যা ও নির্যাতনের মুখে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মানবিক বিবেচনায় তাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার ও উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন শুধু বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নয়; তাদের নিজেদের ঘর, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের অধিকার রয়েছে। নিজেদের মাতৃভূমিতে শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যাওয়ার সুযোগও তাদের প্রাপ্য।

আরও পড়ুন: চলতি সপ্তাহে টানা ৪ দিনের ছুটি, যেভাবে পাবেন

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাবে। তবে পুরো দায়িত্ব বাংলাদেশের একার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদা ও আস্থার সঙ্গে নিজভূমিতে ফিরে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এটি শুধু মানবিক দায় নয়, একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত জীবনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সরকারের কাছে ১০ বছর হয়তো একটি নীতিগত সময়সীমা, আর কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে তা হতে পারে পরিকল্পনার মেয়াদ। কিন্তু শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা শিশুর কাছে এই ১০ বছরই তার শৈশব। একজন তরুণের জন্য এটি শিক্ষার বাইরে থাকার দীর্ঘ সময়। একটি পরিবারের জন্য এটি ঘরহীন থাকার এক দশক এবং একটি সম্প্রদায়ের জন্য অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম।

আরও পড়ুন: জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা কবে? জানা গেল

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বড় ঢল শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছে। বর্তমানে ১২ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। নিজেদের উন্নয়নগত নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তাদের খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।

রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে জমি, সম্পদ ও বিভিন্ন সুযোগ ভাগ করে নিয়েছেন। এর ফলে তাদের জীবিকা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সরকারি সেবার ওপরও চাপ বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা আগের মতো থাকবে- এমন নিশ্চয়তা নেই।

আরও পড়ুন: নিলামে গান্ধীর চিঠি-ভাবনা, বিক্রি ২০ কোটিতে

এ কারণে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হলেও এটিকে সংকটের সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সহযোগী দেশ রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসায় বাংলাদেশ তাদের প্রশংসা করে। তবে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে হওয়ায় এর স্থায়ী সমাধানও মিয়ানমারেই করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের রাখাইনে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকেই চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এটি শুধু সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার নয়, সংকট সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ। রোহিঙ্গারাও বারবার নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাই তাদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার

শরণার্থী ক্যাম্পকে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী আবাস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলেও জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ভেরিফিকেশন দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশুদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর জন্য সরকার কাজ করছে জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকায় নিযুক্ত চীনের উপ-রাষ্ট্রদূত লিউ ইউয়িনের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা চীনের কার্যক্রমেও প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশা করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

লালমনিরহাটের শিশু নন্দিনী হত্যায় প্রধান আসামির ফাঁসি

লালমনিরহাটের শিশু নন্দিনী হত্যায় প্রধান আসামির ফাঁসি

ইলিয়াসকে মেঘনা আলমের চ্যালেঞ্জ

ভিডিও প্রকাশের দাবি ইলিয়াসকে মেঘনা আলমের চ্যালেঞ্জ

স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর, তারপর যা করলেন গৃহবধূ

স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর, তারপর যা করলেন গৃহবধূ

মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্ব প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ

আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্ব প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App