লালমনিরহাটের শিশু নন্দিনী হত্যায় প্রধান আসামির ফাঁসি
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে চাঞ্চল্যকর সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রায় হত্যা মামলায় মাত্র দুই মাস আট দিনের মাথায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রোববার (২৩ আগস্ট)দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ রায় দেন।
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা ও আলামত গোপনের চেষ্টার দায়ে বিধানের বাবা রনজিত কুমার বর্মণ এবং মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বিচারিক প্রক্রিয়া সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রাম থেকে শিশু নন্দিনী নিখোঁজ হওয়ার পরদিন স্থানীয় একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পূর্বের তুচ্ছ কোনো বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নিতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: খাল খননে অনিয়ম, দেড় কোটি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হল প্রশাসন
এই লোমহর্ষক ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুততম সময়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নিহত শিশুটির স্বজনেরা এই দ্রুততম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নিহতের বাবা অবিলম্বে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হ'ত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রক্রিয়ার রেকর্ড গতিতে সম্পন্ন হওয়া এই রায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
