×

জাতীয়

দেবপ্রিয়

সরকারের রাজনৈতিক সাহসের ঘাটতি রয়েছে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

সরকারের রাজনৈতিক সাহসের ঘাটতি রয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

সংস্কার ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, সরকারের অনেক বিষয়ে সদিচ্ছা থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সক্ষমতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবের প্রতিফলন কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সিপিডি আয়োজিত ‘সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ডায়ালগে এসব কথা বলেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলে বেতন কবে জেনে নিন

সরকারের রাজনৈতিক সাহসের ঘাটতির অন্যতম উদাহরণ হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। দেবপ্রিয় বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বেতন-ভাতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। এর কারণ কী, সেটি বড় প্রশ্ন। এর সঙ্গে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও জড়িত। রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে- এ বিষয়টি সরকারের ছয় মাস আগেই জানা থাকার কথা।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বেতন কাঠামো নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়ে গেছে। সেটি পর্যালোচনা করে সরকারের পক্ষে কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব এবং কতটুকু সম্ভব নয়, তা নির্ধারণ করা যেত। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিলেও মানুষ তা মেনে নিত।

আরও পড়ুন: নারীদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার ফ্রি, সরকারি বাসেও ভাড়া মওকুফ

দেবপ্রিয় বলেন, ‘সরকার শুরুতেই ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিতে পারত। এরপর সময় চেয়ে বলতে পারত, বিষয়টি বিবেচনাধীন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া হয়তো উপায় থাকবে না।’

তার মতে, শুরুতে ধাপে ধাপে সমাধানের যে রাজনৈতিক সুযোগ ছিল, সরকার সেটি কাজে লাগাতে পারেনি।

রাজনৈতিক ও নৈতিক বিবেচনায় সমাধান প্রয়োজন

ড. দেবপ্রিয় বলেন, গত ১০ বছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়েনি- এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সচিব থেকে শুরু করে দারোয়ান ও অন্যান্য কর্মী সবাই রয়েছেন। তাই রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির সমাধান করা প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে এবং এর প্রভাব সরকারের অন্যান্য কার্যক্রমেও পড়তে পারে।

সরকারের সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবতা তাদের ভিন্ন পথে যেতে বাধ্য করছে। এখন মূল বিষয় হলো, কঠিন বাস্তবতাকে মোকাবিলায় সরকার কী পদক্ষেপ নেয়। সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও সক্ষমতা ও সমন্বয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে। এই ঘাটতি রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবের বহিঃপ্রকাশ কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: আমাদের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে

তিনি বলেন, সিপিডি দীর্ঘদিন ধরে ‘নির্দয় ভালোবাসা’র কথা বলে আসছে। সরকারেরও সেই অবস্থানে যেতে হবে। জনতুষ্টিমূলক উদ্যোগ জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

সরকারের কার্যক্রমের গতি ও দৃশ্যমান ফলাফল বোঝাতে রূপকের আশ্রয় নিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, ‘এখন পর্যন্ত অনেক ইঙ্গিত দেখি, কিন্তু সংগীত দেখি না। দেয়ার আর লট অব নয়েজেস বাট নো মিউজিক। আমাদের মিউজিকে যেতে হবে।’

অর্থাৎ সরকারের বিভিন্ন ঘোষণা ও উদ্যোগের পাশাপাশি সেগুলোর সমন্বিত এবং কার্যকর ফলাফল জনগণের সামনে আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

সরকারের মেয়াদ নিয়ে যা বললেন

সরকার আগামী আড়াই বছর টিকে থাকবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. দেবপ্রিয় বলেন, এর কোনো বিকল্প তিনি দেখছেন না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি উত্তরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই উত্তরণকে গণতান্ত্রিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

আরও পড়ুন: জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায় বিএনপি: আইনমন্ত্রী

তিনি বলেন, ‘আমরা আগাম এসব কথা বলছি সরকারের সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য। তারা সফল না হলে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা আমরা দেখি।’

প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করাই বড় চ্যালেঞ্জ

ড. দেবপ্রিয়ের মতে, রাজনৈতিক সাহস দেখানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ ও আইনের ওপর নজরদারির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

পুরোনো সরকারের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানগুলো চলবে কি না- এর চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো এসব প্রতিষ্ঠানকে আবারও রাজনৈতিকীকরণের দিকে নেওয়া হচ্ছে কি না।

আরও পড়ুন: হজযাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

তিনি বলেন, ‘তারা যদি রাজনৈতিক পদায়ন করেন, তাহলে এর জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা নিজেরাই।’

দেবপ্রিয় আরও বলেন, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও আর্থিক খাতের সংস্কারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবং নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর রাখতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা ও কার্যকর করা না গেলে অন্য সংস্কারগুলোর সুফলও পাওয়া কঠিন হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের তুলনায় প্রধানমন্ত্রী বেশি জনপ্রিয় বলেও মন্তব্য করেন ড. দেবপ্রিয়। তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজের দলের নেতাকর্মীদের সঠিক পথে পরিচালনা করা এবং আমলাদের যথাযথ দায়িত্বে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, যে দেশে প্রতিষ্ঠান ও নিয়ম-নীতির ভিত্তি দুর্বল এবং একই সঙ্গে বৈরী বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে দেশ পরিচালনা করতে হয়, সেখানে ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করে নেতৃত্বের সক্ষমতা ও যোগ্যতার ওপর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

একাদশে ভর্তি কবে, দেখে নিন

একাদশে ভর্তি কবে, দেখে নিন

ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রশ্নে যে জবাব দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রশ্নে যে জবাব দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সরকারের রাজনৈতিক সাহসের ঘাটতি রয়েছে

দেবপ্রিয় সরকারের রাজনৈতিক সাহসের ঘাটতি রয়েছে

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে দুই কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে দুই কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App