যাদের পে-স্কেল না দিতে বলল টিআইবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত অনুমোদনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
তবে সংস্থাটির মতে, প্রতিবছর নিজ ও পরিবারের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করাকে এই নতুন বেতন স্কেলের মূল শর্ত করা উচিত। যারা নিয়মিত সম্পদের বিস্তারিত তথ্য জমা ও প্রকাশ করবেন না, তাদের এই নতুন সুবিধার বাইরে রাখার জোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিবৃতির মাধ্যমে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান। টিআইবি মনে করে, এই শর্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেছিলেন, আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব।
যদিও জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ প্রকাশ করতে হবে বলে মনে করে টিআইবি।
আরো পড়ুন: পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। সৎভাবে জীবন যাপন করেন। তাদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য।
অন্যদিকে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সুবিধা অযৌক্তিক ও নিষ্প্রয়োজন। তাদের অর্থসম্পদের আকাঙ্ক্ষা এতটাই গগনচুম্বী যে কার্যকর জবাবদিহির উপায় নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে। যার দৃষ্টান্ত আগেই রয়েছে।
অষ্টম পে-স্কেলের অভিজ্ঞতা
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে উঠবে—সরকারের এমন প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
তবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ২০১৫ সালে কার্যকর হওয়া অষ্টম পে-স্কেল নিয়েও তখন একই ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতা বাড়লেও এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের বিস্তার এবং গভীরতা বেড়েছে। এবার যেন আগের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।
সরকারি খাতে দুর্নীতি কমাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
তার মতে, সম্পদ বিবরণী প্রকাশ নিশ্চিত করা না গেলে সরকারি খাতে দুর্নীতির চক্র থেকে সাধারণ মানুষকে বের করে আনা কঠিন হবে। অথচ সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের অর্থ মূলত জনগণের কাছ থেকেই আসে।
মূল্যস্ফীতির শঙ্কা
নতুন বেতন কাঠামোর কারণে সরকারি কর্মজীবীদের আয় বাড়লে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে টিআইবি।
সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে স্বল্প আয়ের মানুষসহ সাধারণ জনগণ এমনিতেই চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়লে তাদের জীবনযাত্রার সংকট তীব্র হতে পারে।
এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের শর্ত কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।
