গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার প্রায় ১০০ মরদেহ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার হওয়া এসব মরদেহ শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গাজা সিটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেইতুন এলাকায় ইমাম আল-শাফি মসজিদের কাছে মরদেহ ও দেহাবশেষগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। পরে ফিলিস্তিনি পতাকায় ঢেকে দেওয়া হয় সেগুলো। স্বজনরা মোমবাতি জ্বালিয়ে ও ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সম্প্রতি রহিম, বালাওয়ি, মালাকা ও কানবুর পরিবারের ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িগুলোর ধ্বংসস্তূপ থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা নিখোঁজদের সন্ধানে পরিচালিত বিশেষ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম চলছে।
তবে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির সংকটে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ইসরাইলি বিধিনিষেধের কারণে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশ করতে না পারায় সীমিতসংখ্যক খননযন্ত্র ও পুরোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেই উদ্ধার অভিযান চালাতে হচ্ছে সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে স্বজনদের খুঁজছিলেন মরিয়ম হাসান আল-বালাওয়ি। তিনি জানান, হামলায় তার স্বামী ও সন্তানরা নিহত হয়েছেন। বর্তমানে তার একমাত্র জীবিত সন্তান মেয়ে মালাককে নিয়েই বেঁচে আছেন তিনি।
মরিয়মের ভাষায়, পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে তার জীবন প্রায় শূন্য হয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়ায় অন্তত তাদের শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
ধ্বংসস্তূপের পাশে পরিবারের সদস্যদের মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন জাদাল্লাহ রহিম। তার পরিবারের ৩২ সদস্যের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ওই বাড়িতে হামলার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের বেশি শিশু এবং প্রায় ১০ জন নারী ছিলেন বলে জানিয়েছেন জাদাল্লাহ।
তার দাবি, হামলার সময় বাড়িটিতে মোট ৩৩ জন অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে কেবল একটি ছোট শিশু জীবিত উদ্ধার হয়।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, উদ্ধার কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে গাজা সিটি এবং উত্তর ও মধ্য গাজার ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ১ হাজার ৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে আছে।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানের প্রথম ধাপে ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবন থেকে প্রায় ৩৩৩টি মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৩ হাজার ৬৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৫ জন আহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
