র্যাব পরিচয়ে জবি ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর কলতাবাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক ছাত্রীকে মেস থেকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করলে ওই ছাত্রীকে না নিয়েই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চলে যান বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলতাবাজারের জনসন রোডের ৫৩/৪ বি এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি ওই মেসে গিয়ে নিজেদের র্যাবের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছেন বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বর্ষা খাতুনকে একটি গাড়িতে তোলা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত না করে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো হলে শেষ পর্যন্ত তাকে আর নেওয়া হয়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান এবং বিষয়টি সূত্রাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
তিনি বলেন, শুরুতে নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে রাখা সম্ভব হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে একটি গাড়িতে তোলা অবস্থায় দেখতে পান।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে অবশ্যই আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত না করে কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক জানান, এক শিক্ষার্থীর ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে থাকা ব্যক্তিরা প্রথমে ভুলবশত ওই মেসে এসেছেন বলে জানান। পরে তারা একটি চুরির মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা বলেন।
তার ভাষ্য, একপর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তোলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। এরপর তাকে আর নিয়ে যাওয়া হয়নি।
অধ্যাপক তারেক আরও জানান, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একটি মামলার কথা বলা হলেও ঘটনাস্থলে মামলার বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও যোগাযোগ নম্বর জানতে চাওয়া হলেও তারা তা দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তার দাবি, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা র্যাবের সদস্য ছিলেন এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, পরে জানা যায় ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত একটি মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। এ কারণে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বর্ষা খাতুনের বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বর্ষা খাতুনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রী মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
