×

জাতীয়

ধর্ষণ কর্মকান্ডে শাস্তি পেলেন ডিবি কর্মকর্তা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

ধর্ষণ কর্মকান্ডে শাস্তি পেলেন ডিবি কর্মকর্তা

ছবি : সংগৃহীত

বিয়ের আশ্বাসে এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ও একসঙ্গে বসবাস এবং পরে বিয়ে করেও তাকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার খান মাহমুদুল হাসানকে শাস্তি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে তাকে দুই বছরের জন্য বেতনবৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় খান মাহমুদুল হাসানের দুই বছরের জন্য বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ে তিনি কোনো বকেয়া প্রাপ্য হবেন না এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২০ সালে জাকিয়া পারভীন নামে এক নারীর সঙ্গে মাহমুদুল হাসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে মাহমুদুল সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাসে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাকিয়া ঢাকায় এসে একটি মেসে বসবাস শুরু করেন। মাহমুদুল ঢাকার বাইরে কর্মরত থাকলেও ছুটিতে ঢাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে তার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো অবস্থান করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাজধানীর চকবাজার এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন।

প্রজ্ঞাপনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ে না করায় জাকিয়া ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই চকবাজার থানায় মামলা করার উদ্যোগ নেন। ওই দিনই মাহমুদুল তাকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর তিনি স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনযাপন করেননি এবং স্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা দেননি বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে বনিবনা না হওয়া, প্রতারণা এবং মাহমুদুল তার আগের বিয়ে ও সন্তানের বিষয় গোপন রেখেছেন—এমন অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর তাকে তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ওই নারীকে বিয়ের আগে বিভিন্ন হোটেল ও ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মতো অবস্থান এবং পরে বিয়ে করেও যথাযথ স্ত্রীর মর্যাদা না দেওয়ার বিষয়টি একজন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তার আচরণের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এটিকে শৃঙ্খলা পরিপন্থী, নৈতিক স্খলন ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় হিসেবে দেখেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

গত ২৮ জুন তাকে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী দিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তিনি অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। গত ২ সেপ্টেম্বর তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য, রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, অভিযোগের জবাব এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাকে লঘুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

তবে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি ওই নারীর করা পৃথক মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৫ সালের ২ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে মাহমুদুল তাকে কক্সবাজার নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে রাজধানীর চকবাজার এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেওয়া হলেও কয়েক মাস পর বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাহমুদুল বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন বলে দাবি ওই নারীর।

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার পর তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই তিনি চকবাজার থানায় মামলা করতে যান। পরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে ২৭ জুলাই একটি কাজি অফিসে তাদের বিয়ে হয়।

তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে কাজি অফিসে রেখেই মাহমুদুল চলে যান বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে ব্লক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নিজের নিরাপত্তা ও প্রতিকারের জন্য ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট ডিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। পরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলা করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে খান মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে তিনি অভিযোগগুলো সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি।

তার আইনজীবী ইমরান হোসেন অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে দাবি করেন, ওই নারী এর আগেও একাধিক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নিজের আগের বিয়ের বিষয় গোপন রেখে তিনি মাহমুদুল হাসানকে বিয়ে করেছিলেন বলেও দাবি করেন আইনজীবী।

আইনজীবীর ভাষ্য, এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান ঢাকার সিএমএম আদালতে ওই নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে যে অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সেটি ‘অসদাচরণ’-সংক্রান্ত। অন্যদিকে ধর্ষণের অভিযোগটি পৃথক ফৌজদারি বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। ফলে বিভাগীয় শাস্তির আদেশকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে আদালতের রায় হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে যা বললেন শিক্ষা সচিব

পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে যা বললেন শিক্ষা সচিব

নতুন পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর

নতুন পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর

বিষাক্ত মদ পানে প্রাণ গেল ৯ জনের

বিষাক্ত মদ পানে প্রাণ গেল ৯ জনের

এক্সপ্রেসওয়েতে ইসমাইল হত্যার রহস্য উদঘাটন

এক্সপ্রেসওয়েতে ইসমাইল হত্যার রহস্য উদঘাটন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App