বিষাক্ত মদ পানে প্রাণ গেল ৯ জনের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মধ্যপ্রদেশে ভেজাল মদ পানের বিষক্রিয়ায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই রাজ্যের সীমান্তজুড়ে তৎপর থাকা একটি চক্রকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী মদ পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। নিহতরা জেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘুঘর, নওরাজ, বারাজসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা রাতে মদ পান করেন। এর কিছু সময় পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত কিংবা ভেজাল মদ সেবনের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মদে বিষক্রিয়ার কারণে মৃত্যুগুলো ঘটেছে—এ বিষয়ে এখনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আক্রান্তদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। নিহত ও অসুস্থ ব্যক্তিরা যে মদ পান করেছিলেন, তার নমুনাও পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব মদ কোথা থেকে এসেছে এবং কারা সরবরাহ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরো পড়ুন: ইসরায়েলে চার সশস্ত্র গোষ্ঠীসহ সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি ইরানের
অগ্নিকাণ্ডের মতোই এ ঘটনাতেও এলাকায় অবৈধভাবে তৈরি বা ভেজাল মদ সরবরাহের বিষয়টি সামনে এসেছে। নিহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, পাশাপাশি এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অবৈধ মদ সরবরাহকারী চক্র জড়িত কি না—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, তদন্ত ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ঘটনার পর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সরকার মেনে নেবে না বলেও জানান তিনি।
রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী জগদীশ দেবড়াও ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবগারি বিভাগের কমিশনারও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।
