স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে স্থানীয়ভাবে বিএনপি সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও কোনো প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত, তা স্থানীয়ভাবে ভোটারদের কাছে পরিচিত হতে পারে। তবে এর কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মীর শাহে আলম।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে একক প্রার্থী দিতে পারে। তবে এসব প্রার্থী দলীয় প্রতীকে মনোনয়নপ্রাপ্ত হবেন না; তারা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
মীর শাহে আলম বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও কোনো এলাকায় একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেটি ভোটারদের অজানা থাকার কথা নয়।
বিএনপি কোনো বিশেষ সুবিধা পাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভূমিকা হবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সহযোগিতা করা। আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা যেকোনো বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
তিনি বলেন, প্রার্থীরা যাতে নিরাপদে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
তিনি বলেন, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা সব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন—ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন—সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে চায়। এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে। এ সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করেছে।
জাতীয় নগর উন্নয়ন কর্মসূচি ও নতুন জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতি প্রণয়নেও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেছে বলে জানান সারাহ কুক। ভবিষ্যতে এই অংশীদারিত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় টেকসই উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও মানুষের সহনশীলতা বাড়াতে কাজ করতে চায় দেশটি।
সুন্দরবন এলাকায় যুক্তরাজ্যের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তিনি বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব মোকাবিলায় সেখানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে যুক্তরাজ্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সিটি করপোরেশনগুলোতে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও তারা কাজ করতে চায়।
এর পাশাপাশি অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রকল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। পিপিপি মডেলের আওতায় বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট টিম বা যোগাযোগের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৩১ মার্চ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগছে।
