শিশুকে যৌন নির্যাতন
মাদ্রাসা শিক্ষকের স্বীকারোক্তিতে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
নজরুল ইসলাম, সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার হিফজ শাখার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ফয়জুল হক নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে জৈন্তাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর সকাল ১১টার দিকে ফয়জুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের শিকার দুই শিশুও বিচারকের কাছে তাদের বক্তব্য দিয়েছে।
পুলিশ ও শিশুদের পরিবারের বরাতে জানা গেছে, হিফজ শাখায় পড়ুয়া দুই শিশুর বয়স ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। সম্প্রতি তারা মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পর সেখানে আর যেতে চাইছিল না। অভিভাবকেরা কারণ জানতে চাইলে একপর্যায়ে তারা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।
শিশুদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিরাতে তাদের শিক্ষক ফয়জুল হকের কক্ষে যেতে হতো। সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হতো। পরে শিক্ষকের কক্ষে গেলে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও যৌন নির্যাতন করা হতো বলেও তারা পরিবারের কাছে অভিযোগ করে।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানায় পরিবার। পুলিশ জানায়, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ফয়জুল হক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে জৈন্তাপুরে চলে যান। তাঁর বাড়িও ওই উপজেলায়।
পরে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশ বুধবার ভোরে জৈন্তাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, পীরের বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে ফয়জুল হক বিচারকের সামনে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের শিকার দুই শিশুও বিচারকের কাছে তাদের বক্তব্য দিয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক শিশুদের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় নারীদের প্রতি অনাগ্রহের কথা বলে তিনি শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বলেও পুলিশের ভাষ্য।
তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যকে আপাতত কথিত স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।
এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
