মক্কা জোটে নতুন কোনো দেশ যুক্ত হবে না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা চুক্তি’ মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। আপাতত এই জোট সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা নেই। অর্থাৎ নতুন করে আর কোনো দেশকে এতে যুক্ত করা হবে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কথা জানান। গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপটে মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান কীভাবে তার সামরিক ও কৌশলগত দায়বদ্ধতা পালন করবে এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জোটটির আইনি ও প্রতিরক্ষা কাঠামো পরিষ্কার করেন।
মুখপাত্রের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জোটটির মূল লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপাতত এর বাইরে নতুন কোনো দেশকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুতি মিলিশিয়াদের হামলা হলে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ সক্রিয় হতে পারে।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে তিনি বলেন, ত্রিপক্ষীয় এই চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসনকে তিন দেশের সবার ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মক্কা চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ব্যবস্থা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর আদলে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় সৌদি আরব আর্থিক সহায়তা ও তহবিল দেবে, তুরস্ক আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করবে এবং পাকিস্তান সামরিক জনবল ও সক্ষমতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিধি বাড়িয়ে এতে তুরস্ককে যুক্ত করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
