নবম পে স্কেলের গেজেট আটকে আছে যে কারণে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান এখনও হয়নি। মন্ত্রিসভায় ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। ভেটিং শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের কথা জানানো হয়েছিল। তবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর পে স্কেলের রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানো হয়। মুদ্রণ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসে। পরে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: পে স্কেলের গেজেট আটকে কোথায়, কর্মকর্তারা জানালেন কারণ
জুডিশিয়ারি সার্ভিসের ভাতা নিয়ে জটিলতা
গেজেট প্রকাশে বিলম্বের কারণ হিসেবে জুডিশিয়ারি সার্ভিসের ভাতা ও বেতন ফিক্সেশনসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুডিশিয়ারি সার্ভিসের কর্মীরা শতভাগ ভাতা চেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ সমাধান ছাড়াই মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন হওয়ায় এখন গেজেট প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিরসনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে গেজেট প্রকাশে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, প্রক্রিয়াগত কারণে যতটুকু সময় প্রয়োজন, শুধু ততটুকুই লাগছে এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশের চেষ্টা চলছে।
গেজেটেই মিলবে চূড়ান্ত নির্দেশনা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন স্কেলে মূল বেতন কত হবে, কোন ভাতা কখন কার্যকর হবে এবং বকেয়া কীভাবে হিসাব করা হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনার জন্য গেজেটের অপেক্ষা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গেজেট প্রকাশের আগে বিভিন্ন খসড়া বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের সুযোগ নেই। বেতন নির্ধারণের নিয়ম, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা এবং অবসর সুবিধাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি কর্মচারীদের দাবি অনুযায়ী বেতন ফিক্সেশনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাভাতা, বাড়িভাড়াসহ কয়েকটি ভাতা বাড়ানোর দাবিও এসেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন বেতন কাঠামোয় ২০ গ্রেড
এর আগে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বাড়বে ১১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।
নতুন স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে দেওয়া হবে না। তিন ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দুই ধাপে অবশিষ্ট অংশ সমন্বয় করা হবে।
অন্যদিকে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।গেজেট প্রকাশ হলেই নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তব প্রয়োগ, বেতন ফিক্সেশন, ভাতা এবং বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে থাকা অনিশ্চয়তা দূর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
