আসিফ মাহমুদ
‘আমাকে ১০ শতাংশ দিয়েন’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিদেশে অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের তথ্য জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া লেখেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০ শতাংশ দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’
এর আগে একই দিন দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প ও দরপত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুদকের তথ্যানুযায়ী, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সিইও নিয়োগে ৬৫ কোটি এবং এলজিআরডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগের কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্রে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়সহ বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এ ছাড়া পর্তুগালে জমি কেনা এবং দুবাইয়ে বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
তবে দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
অভিযোগগুলো অস্বীকার করে গত ৯ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ বলেছিলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধান রাজনৈতিক হয়রানি ও মিডিয়া ট্রায়ালের অংশ।’
