আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ, তদন্তে দুদক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ গ্রাফিক্স
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ, পদায়ন, টেন্ডার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এরইমধ্যে কমিশন নতুন অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে বলেও জানায়।
আসিফ মাহমুদ বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন নেওয়া এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারাদেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের সঙ্গে আসিফ মাহমুদ জড়িত ছিলেন।
এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়ানো এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়া, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করেছেন। পাশাপাশি হোটেল ওয়েস্টিনসহ বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও দামি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।
বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে বলা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন আসিফ মাহমুদ। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: অপরাধীদের প্রযুক্তির অপব্যবহার পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ
এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটির বরাদ্দ ও অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদের পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুষ লেনদেনে তদবির এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
দুদক জানায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগগুলো নিয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
