গরমে বিদ্যুৎ সংকট, বাড়ছে লোডশেডিং
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ গ্রাফিক্স
তীব্র গরমে দেশজুড়ে অব্যাহত লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, এবার বিদ্যুতের রেকর্ড চাহিদার পাশাপাশি তীব্র জ্বালানি সংকটও তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণত শহর ও শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সচল রেখে গ্রামে লোডশেডিং করা হলেও, এবার রাজধানী ঢাকাতেও নিয়মিত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।
বাড্ডা, খিলগাঁও, তেজগাঁও, মগবাজার, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীর মতো জনবহুল এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পড়াশোনার ব্যস্ত সময়ে কিংবা রাতে যখন বিশ্রামের সময়, তখনই বিদ্যুৎ উধাও হয়ে যায়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ফ্রিজে রাখা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে অতিরিক্ত খরচ করে জেনারেটর ব্যবহার করাও সম্ভব নয়।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, গত আগস্টের ১০ তারিখে দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয় এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখেও প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। ওই দিন আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসে। চলতি মৌসুমে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও এলএনজি সংকট, টার্মিনালে ত্রুটি, কয়লা ও তেল সংকট এবং আদানির সরবরাহ হ্রাসের কারণে ঘাটতি আরও বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত বিদ্যুতের চাহিদা এর চেয়েও অনেক বেশি।
আরো পড়ুন: মূল সড়কে অটোরিকশা চলাচলে কঠোর হুঁশিয়ারি
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। কারণ এ বছর বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে এবং গ্রীষ্মকাল দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসেও তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এই সংকটময় মুহূর্তে উৎপাদন খরচ ও সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি আগামী দিনের জন্য দৃশ্যমান দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।’
পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি. ডি. রহমতউল্লাহর বলেন, ‘বর্তমান কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেই, ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণে যে পাওয়ার স্টেশনগুলো চালু রাখা সম্ভব, সেগুলোতে দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।’
ভবিষ্যতের বড় ধরনের জ্বালানি সংকট এড়াতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং নিজেদের গ্যাস উত্তোলনে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
