আ. লীগের মিছিল ঠেকাতে ওসিদের কড়া বার্তা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিছিল ঠেকাতে পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো মূল্যে নিষিদ্ধ দলটির মিছিল বা অপতৎপরতা ঠেকাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় থানার ওসিদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভা সূত্র জানায়, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল কীভাবে অনুষ্ঠিত হলো, তা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত শুক্রবার মিছিল শুরুর মাত্র আট মিনিট আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পুলিশ তথ্য পেয়েছিল বলে সভায় জানানো হয়। তথ্য পাওয়ার পরই মিছিল ঠেকাতে গুলশান থানা পুলিশ উদ্যোগ নেয়।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার এবং ৫০ থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন। সভায় গত আগস্টে রাজধানীতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এসব অপরাধ ভবিষ্যতে কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকানোর পাশাপাশি ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধেও থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও পুলিশ কমিশনার সতর্ক করেছেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় এককভাবে কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়নি। তবে কোথায় কোথায় তথ্যের ঘাটতি ছিল, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মিছিল শুরুর মাত্র আট মিনিট আগে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়।
ভবিষ্যতে রাজধানীর কোথাও যেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে মিছিল বা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় ডিএমপি কমিশনার অধীনস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তালিকা নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। হোটেলগুলো থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়।
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধ করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি।
সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশও দেন পুলিশ কমিশনার।
সভা সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও থানায় পরিদর্শনে গিয়ে থানার ওসিকে সেখানে পাননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে পল্টন থানায় গিয়ে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন আইজিপি আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। এরপর তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা এবং পল্টন মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খানকে প্রত্যাহার করা হয়।
ওসিদের থানায় অনুপস্থিতির বিষয়টি সভায় আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে থানার পরিবেশ ও পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা ঠিক রাখার নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার।
মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, থানায় অবস্থান করে গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় নির্ধারিত পোশাক পরতে হবে। থানার পরিবেশ ও পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
জরুরি প্রয়োজনে থানার বাইরে যেতে হলে সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) বিষয়টি উল্লেখ করে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, থানার এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে পুলিশ সদস্যদের ডিউটি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যাতে শূন্যতা তৈরি না হয় এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এ ছাড়া অপরাধ প্রতিরোধে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
