×

জাতীয়

জনপ্রতিনিধির যোগ্যতায় ডিগ্রি কতটা জরুরি?

Icon

নাজমুল হাসান

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পিএম

জনপ্রতিনিধির যোগ্যতায় ডিগ্রি কতটা জরুরি?

ছবি : সংগৃহীত

জনপ্রতিনিধি হতে কতটা পড়াশোনা প্রয়োজন- এ প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি একজন মানুষের জ্ঞান, মেধা ও সামাজিক ভূমিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

অন্যদিকে জাতীয় সংসদের দিকে তাকালে চিত্রটি ভিন্ন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আইনসভায় উচ্চশিক্ষিত জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি বেশ বড়। বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচনে সাধারণ আসনে নির্বাচিত এমপিদের ৮৩ শতাংশের বেশি স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদেও স্নাতক, স্নাতকোত্তর, আইন, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী আইনপ্রণেতাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

ফলে স্থানীয় সরকারে প্রার্থী হওয়ার জন্য ডিগ্রি বাধ্যতামূলক না হলেও জাতীয় পর্যায়ের আইনসভায় শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে- জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি কতটা জরুরি? একজন জনপ্রতিনিধির যোগ্যতা কি শুধু শিক্ষাগত সনদ দিয়ে নির্ধারণ করা যায়, নাকি এর সঙ্গে অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা, নেতৃত্বগুণ ও মানুষের আস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত এমপিদের আধিক্য

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাংবিধানিক কাঠামোতে রয়েছে ৩০০টি সাধারণ আসন ও নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন। সব মিলিয়ে সংসদের মোট আসন ৩৫০টি।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাধারণ আসনে নির্বাচিত ২৯৭ জন এমপির হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাঁদের বড় অংশই উচ্চশিক্ষিত। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৯৭ জনের মধ্যে ২৪৭ জন স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী। অর্থাৎ সাধারণ আসনে নির্বাচিত এমপিদের ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশ এই শ্রেণিতে পড়েন।

তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার আরও বিস্তারিত শ্রেণিবিন্যাসে কিছুটা ভিন্ন চিত্রও পাওয়া যায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ -টিআইবির বিশ্লেষণে সাধারণ আসনের এমপিদের মধ্যে স্নাতকোত্তর, স্নাতক এবং তার ওপরে ডিগ্রিধারীদের সম্মিলিত হার প্রায় ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠেরই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা রয়েছে।

অন্যদিকে প্রকাশিত হলফনামার তথ্যে ১৫ জন এমপির শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পর্যন্ত এবং ১৭ জনের এইচএসসি পর্যন্ত। এ ছাড়া কয়েকজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিকের নিচে।

তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎসের শ্রেণিবিন্যাসে পার্থক্য রয়েছে। কেউ স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডিকে একসঙ্গে ‘উচ্চশিক্ষিত’ হিসেবে দেখিয়েছে, আবার কেউ স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পেশাগত ও অন্যান্য ডিগ্রি আলাদাভাবে বিবেচনা করেছে। তাই দুই ধরনের হিসাবকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

দলভেদেও উচ্চশিক্ষার চিত্র

উচ্চশিক্ষিত ২৪৭ জন এমপির দলভিত্তিক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য চিত্র পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে বিএনপির ১৭১ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৬১ জন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অন্য দলের ৩ জন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৭ জন এবং স্বতন্ত্র ৫ জন রয়েছেন। এসব সংখ্যার যোগফল ২৪৭।

অর্থাৎ এটি পুরো ২৯৭ জন এমপির দলভিত্তিক শিক্ষাগত হিসাব নয়; বরং উচ্চশিক্ষিত ২৪৭ জনের মধ্যকার বিভাজন।

নির্বাচিত আসনের মোট সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করলে বিএনপির ২০৯ জন এমপির মধ্যে ১৭১ জন উচ্চশিক্ষিত। এ হিসাবে দলটির উচ্চশিক্ষিত এমপির হার প্রায় ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ। আর জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন এমপির মধ্যে ৬১ জন উচ্চশিক্ষিত, অর্থাৎ প্রায় ৮৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।

অর্থাৎ সংখ্যার হিসাবে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও নিজ নিজ দলের মোট নির্বাচিত এমপির অনুপাতে উচ্চশিক্ষিতের হার জামায়াতের বেশি।

আগের কিছু বিশ্লেষণে জামায়াতের উচ্চশিক্ষিত এমপির হার ৯৪ শতাংশ এবং বিএনপির ৮১ দশমিক ৪৮ শতাংশ বলা হলেও আসনসংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব করলে তা যথাক্রমে প্রায় ৮৯ দশমিক ৭১ শতাংশ ও ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ।

সংরক্ষিত নারী আসনেও উচ্চশিক্ষিতদের আধিক্য

জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের চিত্রও শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জনের মধ্যে ৪৪ জন, অর্থাৎ ৭৮ শতাংশ স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বলে সুশাসনের জন্য নাগরিক -সুজনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এর মধ্যে ৩০ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর এবং ১৪ জনের স্নাতক। বাকি সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রকাশিত বিশ্লেষণে শিক্ষাগত যোগ্যতার পূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস একভাবে দেওয়া হয়নি। ফলে ওই অংশে অনুমাননির্ভর সংখ্যা যোগ না করাই নিরাপদ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জন ২০২৬ সালের মে মাসে শপথ নেন।

এমপিদের পেশায় ব্যবসায়ীদের আধিপত্য

শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি জাতীয় সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পেশাগত পরিচয়ও আলোচনার বিষয়। হলফনামাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ আসনের এমপিদের প্রায় ৫৯ শতাংশ নিজেদের পেশা হিসেবে ব্যবসাকে উল্লেখ করেছেন। আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিও সংসদে রয়েছেন।

সংসদে ব্যবসায়ীদের বড় উপস্থিতি অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পেশা, শ্রেণি ও সামাজিক গোষ্ঠীর আরও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন কি না, সেটিও আলোচনার বিষয়।

কারণ একজন আইনপ্রণেতার দায়িত্ব শুধু নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা সংসদে তুলে ধরা নয়; কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, তরুণ, নারী, নিম্নআয়ের মানুষসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের স্বার্থও আইন ও নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত করা।

পাকিস্তানেও উচ্চশিক্ষিতদের উপস্থিতি

বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের তুলনা করলে সেখানেও সংসদ সদস্যদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। ২০২৪ সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের পর ২৬৫ জন সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে ১১২ জন স্নাতক এবং ৬৩ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।

এ ছাড়া ৪২ জনের এলএলবি, তিনজনের এলএলএম, ১০ জনের এমবিবিএস, তিনজনের প্রকৌশল ডিগ্রি, চারজনের পিএইচডি এবং দুজনের এমফিল ডিগ্রি ছিল।

অর্থাৎ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদেও আইন, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত আইনপ্রণেতাদের উপস্থিতি রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ২০২৬ সালের তথ্যের সঙ্গে পাকিস্তানের ২০২৪ সালের এই পরিসংখ্যান সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে দুই দেশের নির্বাচনের সময়ের পার্থক্যটি মাথায় রাখা জরুরি।

পাকিস্তানে একসময় ডিগ্রি ছিল বাধ্যতামূলক

পাকিস্তানে নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি একসময় আরও কঠোর ছিল। ২০০২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের আমলে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে স্নাতক ডিগ্রি বা তার সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

এ কারণে সে সময়ের সংসদকে অনেকে ‘গ্র্যাজুয়েট অ্যাসেম্বলি’ হিসেবে উল্লেখ করতেন। পরে প্রার্থীদের জন্য এই বাধ্যতামূলক শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত বাতিল করা হয়। তবে পরবর্তী সময়েও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে শিক্ষিত ও পেশাজীবী শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্য ছিল।

স্থানীয় নির্বাচনে ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়

জাতীয় সংসদের বাইরে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চিত্রটি ভিন্ন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদেও প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যের মূল কথাও হলো-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একজন মানুষের যোগ্যতা যাচাইয়ের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সামাজিক ভূমিকা, বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও একজন জনপ্রতিনিধির যোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কারণ স্থানীয় সরকারের একজন জনপ্রতিনিধিকে অনেক সময় এমন বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে হয়, যার সঙ্গে সরাসরি জনগণের জীবন-জীবিকা জড়িত। রাস্তা, পানি, স্যানিটেশন, স্থানীয় অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা, বিরোধ মীমাংসা কিংবা নাগরিক সেবা -এসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এর অর্থ এই নয় যে শিক্ষার প্রয়োজন নেই। বরং প্রশ্ন হলো, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার মধ্যে কোনটিকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শুধু ডিগ্রি থাকলেই কি যোগ্য জনপ্রতিনিধি?

এখানেই মূল প্রশ্নটি ফিরে আসে- একজন জনপ্রতিনিধির জন্য ডিগ্রি কতটা জরুরি?

উচ্চশিক্ষা একজন জনপ্রতিনিধিকে আইন, অর্থনীতি, প্রশাসন, প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার জটিল বিষয় বুঝতে সহায়তা করতে পারে। সংসদীয় বিতর্ক, বাজেট বিশ্লেষণ, আইন প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

কিন্তু ডিগ্রি থাকলেই একজন মানুষ ভালো জনপ্রতিনিধি হয়ে যাবেন -এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে কোনো ব্যক্তি উচ্চশিক্ষিত নন বলেই তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্বের অযোগ্য -এমন সিদ্ধান্তও সরলীকরণ হবে।

একজন জনপ্রতিনিধির জন্য মানুষের কথা শোনার সক্ষমতা, এলাকার বাস্তবতা বোঝা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা, সততা, জবাবদিহি, নেতৃত্বগুণ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জনসম্পৃক্ততাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রে আইন ও রাষ্ট্র পরিচালনার জটিলতা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান আরও কার্যকর হতে পারে।

ডিগ্রি নাকি যোগ্যতা- আসল প্রশ্ন এখানেই

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিসংখ্যান বলছে, জাতীয় রাজনীতিতে উচ্চশিক্ষিতদের উপস্থিতি কম নয়। বাংলাদেশের সাধারণ আসনের এমপি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের মধ্যেও উচ্চশিক্ষিতদের উল্লেখযোগ্য আধিক্য রয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদেও স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও বিভিন্ন পেশাগত ডিগ্রিধারীদের উপস্থিতি রয়েছে।

তবে গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধিত্বের চূড়ান্ত মাপকাঠি শুধু সনদ হতে পারে না। জনগণ যাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তাঁর দায়িত্ব হলো সেই আস্থার মর্যাদা রাখা।

তাই জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একমাত্র যোগ্যতা নয়। ডিগ্রি একজন জনপ্রতিনিধিকে জ্ঞান দিতে পারে; কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জন, দায়িত্বশীলতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণই শেষ পর্যন্ত তাঁকে কার্যকর জনপ্রতিনিধি করে তুলতে পারে।

সুতরাং প্রশ্নটি শুধু ‘জনপ্রতিনিধির ডিগ্রি আছে কি না’-এখানে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বড় প্রশ্ন হলো, যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা একজন জনপ্রতিনিধির রয়েছে, তিনি তা কতটা দক্ষতার সঙ্গে জনগণের স্বার্থে কাজে লাগাতে পারেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সালাম ও ‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

সালাম ও ‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাঁধনের খোঁজ নিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাঁধনের খোঁজ নিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জনপ্রতিনিধির যোগ্যতায় ডিগ্রি কতটা জরুরি?

জনপ্রতিনিধির যোগ্যতায় ডিগ্রি কতটা জরুরি?

জাতীয় গ্রিডে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ, বিদ্যুৎ-শিল্প খাতে ফিরছে স্বস্তি

জাতীয় গ্রিডে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ, বিদ্যুৎ-শিল্প খাতে ফিরছে স্বস্তি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App