হাজারো শিশুমৃত্যুর জন্য দুই সরকারকে দায়ী করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে হামে শিশুমৃত্যুর জন্য আগের দুই সরকারের সময়ে টিকাদান কর্মসূচিতে গাফিলতি ও বিলম্বকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে নিহত শিশুদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহাখালীর কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের মতো উপসর্গে মোট ১ হাজার ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০১ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৮৩ জনের। একই সময়ে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১৫ জন এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩।
টিকাদান কর্মসূচিতে গাফিলতির প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে চালু না থাকা এবং ভ্যাকসিন আমদানিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশকে এর খেসারত দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘ সময় ধরে গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে বহু শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর মৃত্যু সরকারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং একই সঙ্গে লজ্জার বিষয়।’ তাঁর দাবি, দেশে প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে পরিচালিত কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ শিশু ইতোমধ্যে হাম-রুবেলা টিকা পেয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য জানিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার থেকে নতুন করে ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এতে হাম-রুবেলা টিকা থেকে বাদ পড়া ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচিটি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশেষ কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করবেন। তালিকার বাইরে থাকা বা আগের কর্মসূচিতে বাদ পড়া শিশুদেরও শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এএনএম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রবাথ চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
