শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে যা জানালেন দীনেশ ত্রিবেদী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ফাইল ছবি
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, বিষয়টি আদালতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নেও একই কথা প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ‘বে অফ বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত একটি সেশনে প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার ভারত যাওয়া ও বর্তমান আইনি প্রক্রিয়া:
শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সে সময় বাংলাদেশে সৃষ্ট মর্মান্তিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন। পৃথিবী যেন আর কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘আমি আওয়ামী লীগের না, আমি হেলমেট পরব না’
তিনি জানান, সেই মুহূর্তে একটি সামরিক বিমান ভারতে চলে আসে এবং ভারত এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকায় এবং অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় একজন প্রতিবেশী হিসেবে তখনকার বাস্তবতাকে গ্রহণ করাকে ভারতের দায়িত্ব বলে মনে করা হয়েছিল। অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি কোথায় যেত, তা বলা কঠিন ছিল বলে জানান তিনি।
বর্তমানে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত— উভয় দেশই প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং আইনের শাসনকে সম্মান করে। তাই আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এই বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক:
বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। নিজেদের নিরাপত্তা এবং কী করা উচিত, তা তারা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বোঝে। এ বিষয়ে কাউকে উপদেশ দেওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
আরও পড়ুন: কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম
দুই দেশের সম্পর্কের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল লেনদেনভিত্তিক নয়; এর গভীরে রয়েছে শক্তিশালী ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা—এমন অনন্য বন্ধন বাইরের বিশ্বের পক্ষে পুরোপুরি বোঝা কঠিন।
পরিবারের মতো দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকাকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দূরত্ব রেখে নয়, একমাত্র সংলাপ, আলোচনা ও আস্থার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা ও আন্তরিকতাই এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি অটুট রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
