×

জাতীয়

‘ফ্যামিলি কার্ডে ২৮ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পারে’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

‘ফ্যামিলি কার্ডে ২৮ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পারে’

ফাইল ছবি

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করে এবং নগদ সহায়তার সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল পেতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ প্রতিবেদনে এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার জরুরি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে, বিশেষ করে চাকরি হারিয়েছেন নারীরা। এমন পরিস্থিতিতে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে। ফলে সরকারি সহায়তার একটি বড় অংশ প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তবে কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া উন্নত করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন: এবারের দুর্গাপূজা ‘অগ্নিপরীক্ষা’

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করা, নগদ সহায়তার সুবিধাভোগী নির্বাচন আরও কার্যকর করা এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় কমার পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিক উপায়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শনাক্ত করে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকিও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। তবে এসব সুবিধা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যাঁদের, তাঁদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা না গেলে সীমিত সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন। তাই আরও সংবেদনশীল ও লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতিতে চাপ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয়ও বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণও অত্যন্ত দুর্বল। ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। ফলে প্রয়োজনীয় খাতে সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।

ব্যাংকিং খাতের চিত্রও উদ্বেগজনক। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব ঘাটতিও বেড়েছে; ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ঘাটতি থাকলেও ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে এক দিনে প্রাণ ঝরল ১০ জনের

তবে অর্থনীতির বহির্বিশ্বমুখী খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। শক্তিশালী রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক খাতে স্বস্তি বজায় রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কর্মসূচির গতি বাড়ানো গেলে ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্রদের সুরক্ষা প্রদান এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এসব সংস্কার অবিলম্বে বাস্তবায়ন জরুরি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘মব’ সৃষ্টি করে রামেবির ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ

‘মব’ সৃষ্টি করে রামেবির ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ

ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে বাবাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, বিচার দাবি

ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে বাবাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, বিচার দাবি

৩০৫ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার, একজনের কারাদণ্ড

৩০৫ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার, একজনের কারাদণ্ড

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App