×

জাতীয়

‘বাংলাদেশ-জাপানের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

‘বাংলাদেশ-জাপানের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে’

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দুই দেশের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তর করাই এখন লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জাপানকে পাশে চায় বাংলাদেশ। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে।

অন্যদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান। বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী টোকিও।

এর আগে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর গার্ড পরিদর্শন করেন তারেক রহমান।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। একইভাবে সানায়ে তাকাইচি তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে তারেক রহমানকে পরিচয় করিয়ে দেন।

পরিচয়পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। এরপর দুই নেতা একান্ত বৈঠকে বসেন।

বৈঠক ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন সানায়ে তাকাইচি। এতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বাগত বক্তব্য ও শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপনের কর্মসূচি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে যাওয়া দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা টানানো হয়।

চার দিনের এ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতায় গুরুত্ব

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরের প্রথম দিনেই জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে ২০০৬ সালে জাপানে তাঁদের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন তারেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে আসোর অবদানের স্বীকৃতি জানান এবং তাঁকে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানিয়েছেন।

মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্পে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন তারেক রহমান।

বৈঠকে একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও উঠে আসে। পাশাপাশি কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্পের বিকাশ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যারা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এ ছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান: তাকাইচি

বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান: তাকাইচি

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ৩ নম্বর সংকেত

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ৩ নম্বর সংকেত

রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট আজ বন্ধ

রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট আজ বন্ধ

‘বাংলাদেশ-জাপানের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে’

‘বাংলাদেশ-জাপানের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App