ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ৩ নম্বর সংকেত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ এএম
ফাইল ছবি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুধবার বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। এ সময় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশেও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৩টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল। এ সময় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার অন্ধ্র প্রদেশ-ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় আঘাত হানার সময় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
ভারতে দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ভারতের জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে। অন্ধ্র প্রদেশ, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পুদুচেরির প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় চালু করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এ ছাড়া সমুদ্রে থাকা জেলেদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বাংলাদেশে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবারও দেশের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। সেখানে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে মঙ্গলবার থেকে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা বিভাগের পশ্চিমাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি নির্ভর করবে। এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
