২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বাংলাদেশের জিডিপি: প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে। আর ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং আগামী তিন থেকে পাঁচ দশকের অর্থনৈতিক সহযোগিতার রূপরেখা তুলে ধরতে জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে জাপানি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য
তারেক রহমান বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বিশাল বাজার এবং তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
এই লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি
বাংলাদেশ ও জাপানের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৩৭টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। একইভাবে জাপানি পণ্যও বাংলাদেশে বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করবে। এ চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপানি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ নিরসনে গুরুত্ব
জাপানি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের তিনটি প্রধান উদ্বেগ—নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো এবং সহজ কাস্টমস ও করপ্রক্রিয়া—সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়বে।
জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও তিন অগ্রাধিকার খাত
প্রধানমন্ত্রী জানান, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে জাপানি মোটরগাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও বড় খুচরা বিক্রেতারা কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তিনটি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
জ্বালানি খাত: দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকসনির্ভর ‘বাংলাদেশ-জাপান টেকনোলজি পার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান ও উপগ্রহ প্রকৌশলে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা: দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে সংযুক্ত করতে দেশব্যাপী এলিভেটেড হাইওয়ে ও উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
দক্ষ মানবসম্পদ ও জাপানি ভাষা শিক্ষায় জোর
বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও গভীর করতে তরুণদের জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপানকে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত প্রধানমন্ত্রীর
বক্তব্যের শুরু ও শেষে জাপানি ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বাংলাদেশে নতুন শিল্প স্থাপন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।
