সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাণিজ্য মেলার মাঠে ভাঙচুর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ সচিবালয় শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে মাঠে ভাঙচুর চালিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকালে তাঁরা মিছিল নিয়ে মাঠে গিয়ে এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলার জন্য নির্মিত একটি গেট ও কয়েকটি স্থাপনা ভাঙচুর করেন।
মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন করছেন। বর্তমান স্থান থেকে সচিবালয় সরিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই তাঁরা এর বিরোধিতা করে আসছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকাস্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা। একপর্যায়ে মাঠে থাকা মেলার গেট ও স্টল ভাঙচুর করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মেলা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং এ জন্য সময়ও বেঁধে দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁরা মাঠে গিয়ে অবস্থান নেন।
মাঠ ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
মেলার মহাজন মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, “আমরা এখনই গেট সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলে দিচ্ছি। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ নই। আমরা এটি সরিয়ে ফেলব।”
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, “ছাত্ররা মাঠে এসেছিল। গেটসহ দুয়েকটা ছোট স্থাপনা ভাঙচুর করেছে। তাদের দাবি জানিয়ে পরে আবার চলে গেছে।”
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয় স্থাপনের জন্য পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে মাটি পরীক্ষার কাজ চলার সময় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা মাটি পরীক্ষার যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ওই মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে মাঠ গবেষণার জন্য একটি ইনস্টিটিউটধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তাঁরা সচিবালয় স্থানান্তরের বিরোধিতা করে আসছেন।
তিনি বলেন, “তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই ভাঙচুর। এই ঘটনায় আমাদের আসলে করার কিছু নেই। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও গণপূর্তের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়।”
ভাঙচুরের ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
