জনগণের কল্যাণেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণের কথা বিবেচনা করেই সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, সরকার জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে অবগত। তারপরও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, রান্নার গ্যাসসহ জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর কতটা চাপ পড়ে, তা সরকার বোঝে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সরকার চাইলে দাম নিয়ন্ত্রণে ভর্তুকি দিতে পারে। ভারতের মতো অনেক দেশও রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিয়ে থাকে।
তবে আমদানি করা পণ্যে ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্যের তুলনায় ভিন্ন বাস্তবতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এতে দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হয়। ফলে সরকার কতটা ভর্তুকি দিতে পারবে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু মাত্র আড়াই মাসেই এর অর্ধেক অর্থাৎ ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।
জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে এলএনজি কিনতে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৩০ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অথচ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দাম সর্বোচ্চ ১৪ ডলারের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট মূলত বৈশ্বিক পরিস্থিতির অংশ।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সরকারকে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা ক্রমাগত কমছে। জনগণের স্বার্থে সরকার যদি বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি অব্যাহত রাখে, তাহলে ঋণের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
ঋণ বাড়ানোর সম্ভাব্য প্রভাব ব্যাখ্যা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা কিংবা বাজার থেকে ঋণ নিলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে। এতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই জ্বালানির মূল্য ও ভর্তুকি নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এসব অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
