দুই ঘণ্টা সংঘাতের পর শান্ত মিরপুর, চলছে যানবাহন-মেট্রোরেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলনে নামা পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর রাজধানীর মিরপুর এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনও চালু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে সড়ক অবরোধ করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়ায়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও মিরপুর-১১ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লাঠি হাতে মিছিল করতেও দেখা যায়।
দুপুর দেড়টার দিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন বলেন, সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি ও যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, দুপুর ২টার পর আবারও সড়ক অবরোধের চেষ্টা হতে পারে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পোশাকশ্রমিক জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। তার অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। দুপুরের খাবার শেষে শ্রমিকরা আবারও আন্দোলনে নামবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ স্টেশনে ট্রেন থামানো বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় স্টেশন দুটির প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা প্রবেশ ও বের হতে পারেননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্টেশন দুটিতে আবারও ট্রেন থামানো এবং যাত্রী ওঠানামা শুরু হয়।
সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের হামলায় অন্তত সাত থেকে আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ওসি জালাল উদ্দীন জানান, মিরপুর-১১ এলাকা থেকে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হলে তারা কালশীর দিকে সরে যান। এ সময় পল্লবী থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিরপুর-১১-এর দিকে যাচ্ছিলেন। দলছুট অবস্থায় পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পোশাকশ্রমিক নন। প্রাথমিকভাবে তাদের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের থানায় নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করছেন। এ সময় কয়েকজনকে হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (পিওএম-দক্ষিণ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ বলেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীরা অনুপ্রবেশ করেছিল। শ্রমিক নেতারা আগের দিন জানিয়েছেন, শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন। এরপরও যারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন, তারা শ্রমিক নন, বরং দুষ্কৃতকারী। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
