পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
‘দেশে-বিদেশে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। ছবি: সংগৃহীত
যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। দেশে ও বিদেশে সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তারে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিতাসের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করা হয়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন দক্ষ ও সাহসী সৈনিক ছিলেন। মানব পাচারকারীদের গুলিতে তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করতে হবে। কারণ, মানব পাচারকারীরা দেশ ও জনগণের শত্রু।
মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। পাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এসব চক্র শুধু দেশের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নয়, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয়। বাংলাদেশ থেকে যেসব পথে সাধারণ মানুষকে পাচারের চেষ্টা করা হয়, সেসব দেশের সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ ১৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে মানব পাচারবিষয়ক সভা হয়েছে। সেখানে ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে নিখোঁজ, জিম্মি বা আটক থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন ধরনের মাদক কারবারি ও মাফিয়া চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের সঙ্গে মানব পাচারের সংশ্লিষ্টতা ছিল। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মানব পাচারকারীদের দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মানব পাচারকারী চক্রের তৎপরতা শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিদেশেও তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাই সব জায়গায় তাদের বিরুদ্ধে সরকার সক্রিয় রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানব পাচারকারীদের কারণে তিতাসের মতো সাহসী সেনাসদস্যকে জীবন দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও নিরাপদে বিদেশে যেতে পারছে না। এ কারণে এসব অপরাধী চক্রকে প্রতিহত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আযাদ, নিহত তিতাসের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফের গহিন পাহাড়ে অভিযান চালানোর সময় মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো।
২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন তিতাস। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নানির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
